মিনোতার
১.
অনেক গোলকধাঁধা পার হয়ে এলো মিনোতার
নিজেরই খেয়ালে একা
আধামানবের বেশে অর্ধ্বষণ্ডরূপে
হয়তো সে জানে কিংবা আদৌ জানে না
সে তার নিজেরই পিতা
সন্তান নিজের
নিজের ভেতরে বসে বুনে চলে নিজ রক্তবীজ
অনন্যোপায় হয়ে। কিংবা তার
রক্তের ভেতরে থাকা ঘুমন্ত আহলাদে!
সে নিজে রচনা করে অবিরাম রণআয়োজন
কুরুক্ষেত্রে ভরে তোলে তার নিজ সামান্য মগজ;
অদ্ভূত বাসনা তার কামে ও হননে ঢেউ তোলে
২.
পুরাণের বাইরে এসে সে এখন আঁকছে নিজেকে
শিশ্ন-শিং-অণ্ড-জিভে
খর খুরে, কঠিন চোয়ালে
আপাতত গন্তব্য গেরনিকা ।
তারপর। তার আরো পরে
আরো-আরো গন্তব্য এসে জমা হবে ক্রূর করোটিতে
মিনোতার সবখানে যাবে। গিয়ে
দক্ষযজ্ঞ কাণ্ড বাধাবে দশদিকে
৩.
সে চেয়েছে সব তার হোক
সে চেয়েছে দেবী ও দানবী-মানবী সব
তার জন্য খুলে দিক, মেলে দিক
তীব্র-তপ্ত যোনি ও জঘন ।
সে চেয়েছে, তারা তাকে প্রশ্নহীন কোল মেলে দিক
সে চেয়েছে ব্রহ্মাণ্ডকে অণ্ড তার
অফুরন্ত বীজে ভরে দিক।
যাতে এর ফেনা থেকে জন্ম নেয়
অর্বুদ-অর্বুদ কোটি সংহারের কীট
৪.
সদা ঘোর সদা ঘোর।
অগ্নিমদ। সদাই বারুদ
কুঁতকুঁতে চোখজোড়া রিরংসায়, অহিফেনে বুঁদ
দোজখের দু’খানি দুয়ার তাতে হা-কপাট খোলা
৫.
ঘোঁৎ- ঘোঁৎ, ঘোঁৎ-ঘোঁৎ,
গুঁতো ও কামড় তার ভাষা
অন্য কোনো ভাষা তার নাই
৬.
রতি রক্ত হননের তীব্র সুখ না-পেলে সে একদম মৃত
সে চেয়েছে মুণ্ডমালা, কিশোরীর রমণীর
রক্তলাগা ছিঁড়ে নেওয়া স্তন
ভয়-হ্রেষা-আর্তনাদ না হলে কি জমে তার মৃগয়া ও মদ?
৭.
পুরাণের পাতা থেকে, দ্যাখো দ্যাখো, মিনোতার এসেছে বেরিয়ে
বেরিয়ে এসেছে তার কালচে ধূসর
মাথা আর চোয়াল-করোটি
তার দু্ই চোখ যেন লিপ্সাঠাসা অতল গহ্বর
নাসারন্ধ্রে দোজখের দুইখানা চিমনি বসানো
৮.
হননবিকারে মত্ত ,ক্ষমাহীন, ক্রূর
আদিম, পেশল এক দেহ নিয়ে
এলো সে যখন
ঘোড়াটিকে শিং দিয়ে অতর্কিত
গাঁথল যখন
চারদিকে তীব্র হ্রেষা আর্তনাদ
উঠল যখন
মই বেয়ে একটি লোক
পলায়ন-উদ্যত যখন
নির্ভয় কিশোরী এসে একহাতে তুলে ধরলো মোম
অন্য হাতে বাড়িয়ে ধরলো ফুলতোড়া
থমকে গেল টলে গেল তৎক্ষণাৎ শিলীভূত হলো মিনোতার
একটি জানালা থেকে অন্য দুই নওল কিশোরী
সেই দৃশ্য দেখলো কৌতুকে
দূরে একটি ছোট নৌকা আবছায়া
দুলছিল... অগোচরে... ঢেউয়ে
সুতনুকা
বহুদিন বহুরাত বহু হাসি, বহু গান
বহু নীল, বহু লাল, বহু হূল বহু ঘৃণা
বহু বহু হাহাকার
বহু বহু ভালোবাসা শেষে
মরীচি, অঙ্গিরা, অত্রি, ক্রতু ও পুলহসহ
আরো যারা, আরো যতো নাম
এখন তাদের আমি দেখি না, পাই না খুঁজে আর
হঠাৎ পশ্চিমে যতো পাইন, ওক, স্প্রুস,
সাইপ্রেস গাছেদের বনের ভেতর থেকে
বেরিয়ে এসেছে তারা... সাতজন... ভল্লুকের বেশে;
মাথার ওপরে দূরে আকাশের পটে লেখা হলো
তাদের নতুন নাম... গ্রেট বিয়ার!
মধুগন্ধা কাম্যযোনি, সুতনুকা, তুমি তাকে
মেনে নিতে কতোটা প্রস্তুত?
ইত্তেফাক/আরএ
