সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল শনিবার থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ইউনিট-২তে করোনা রোগী ভর্তি শুরু হবে। মূল ভবনটিতে আপাতত সাধারণ রোগীদের চিকিত্সা চলবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একইসঙ্গে করোনা ও সাধারণ রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া হবে। বার্ন ইউনিটের ২৩০ আর ইউনিট-২ তে ৫২০ শয্যা মিলিয়ে ৭৫০ জন রোগীকে হাসপাতালে রেখে চিকিত্সা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাদের অপারেশনের প্রয়োজন হবে তাদের নেওয়া হবে বার্ন ইউনিটে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা রয়েছে মূল ভবনে। ইউনিট-২ তে ১০টি আইসিইউ বেড বসানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে ব্যাপকহারে রোগী ভর্তি হলে আইসিইউ সাপোর্ট খুব একটা দেওয়া সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হবে। এখানে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা আছে। তিন শিফটে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের নেতৃত্বে সবাই কাজ করবেন। সেভাবেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
চিকিত্সক, নার্স ও সাধারণ কর্মচারীরা তিন শিফটে কাজ করবেন। প্রত্যেকে সাত দিন ডিউটির পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। এরপর পরীক্ষা করে করোনা নেগেটিভ হলে তাদের বাসায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ডাক্তারদের জন্য রিজেন্সি হোটেল, নার্সদের জন্য সুন্দরবন ও কর্মচারীদের জন্য ফকিরাপুলের শালিমার হোটেল নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি শিফটেই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা থাকবেন। তাদের তত্ত্বাবধানেই চিকিত্সা কার্যক্রম চলবে। সব ধরনের করোনা রোগীই এখানে ভর্তি করা হবে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, মেইন ভবনটিতে আপাতত সাধারণ রোগীদের ইমার্জেন্সি চিকিত্সা হবে। অর্থাত্ যারা করোনা আক্রান্ত নন, তাদের চিকিত্সা দেওয়া হবে। মেডিসিন, হূদেরাগ, ক্যানসারসহ সব ধরনের চিকিত্সা ব্যবস্থা এখানে থাকবে। যারা করোনা আক্রান্ত এবং যাদের উপসর্গ রয়েছে তাদের নেওয়া হবে ইউনিট-২ তে। আর কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীদের সার্জারির ব্যবস্থা করা হয়েছে বার্ন ইউনিটে। অনেক করোনা আক্রান্ত রোগীর সিজারও সেখানেই হবে। এখানে সম্মিলিত চিকিত্সার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাত্ কেউ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে ফিরে যাবেন না। এছাড়া সাধারণ রোগীরা সোহরাওয়ার্দী ও মিটফোর্ড হাসপাতালেও চিকিত্সা করাতে পারবেন।
দেশের মোট চিকিত্সার ৭০ শতাংশই হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ২ হাজার ৬০০ বেডের এই হাসপাতালে ৪ থেকে ৫ হাজার রোগী সব সময় ভর্তি থাকেন। এছাড়া জরুরি ও বহির্বিভাগে প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চিকিত্সা নেন। এমন কোনো চিকিত্সা নেই যেটা ঢাকা মেডিক্যালে হয় না। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাসপাতাল এটি। প্রতিদিন এখানে ১০০ থেকে ১৫০ অপারেশন হয়। ৭০ থেকে ৮০টি সিজার হয়। ডেলিভারি হয় আরো বেশি। শতাধিক কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস হয় এখানে। ক্যানসার, হার্ট, লিভার, ওপেন হার্ট, কিডনি, বোনমেরু ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ডায়াবেটিস, নিউরোসার্জারি, নিউরোলজি, দুর্ঘটনায় আহতসহ এমন কোনো রোগ নেই যার চিকিত্সা এখানে মেলে না। এখানে যারা চিকিত্সা নেন তাদের ৮০ শতাংশই দরিদ্র। অধিকাংশকেই ফ্রি চিকিত্সা দেওয়া হয়।
