সাংবাদিক ফখরে আলম আর নেই

আপডেট : ১৪ মে ২০২০, ২৩:২৪

যশোরের প্রথিতযশা সাংবাদিক দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি কবি ফখরে আলম (৬০) আর নেই (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে আট বছর তিনি চিকিত্সাধীন ছিলেন। তিনি মা, স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বিকালে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রেসক্লাব যশোরে তার মরদেহ আনা হয়। সেখানে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বাদ আসর যশোর জিলা স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের বাড়ি শহরতলীর চাঁচড়ায় ২য় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ফখরে আলম ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি ভারতের টাটা হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল ক্যানসারের কারণে তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন।

১৯৮৫ সালে সাপ্তাহিক রোববার পত্রিকার প্রতিবেদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। এরপর দৈনিক আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, বাংলাবাজার পত্রিকা, মানবজমিন, জনকণ্ঠ, আমাদের সময়, যায়যায়দিন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। সর্বশেষ তিনি কালের কণ্ঠে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ফখরে আলম সাংবাদিকতায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের বজলুর রহমান স্মৃতি পদক, মোনাজাতউদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার, এফপিএবি পুরস্কার, মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, এফইজেবি পুরস্কার, টিআইবি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তার রিপোর্টারের ডায়েরি, হাতের মুঠোয় সাংবাদিকতা, ডাকে প্রেম তুষার চুম্বন, তুই কনেরে পাতাসী, খুলে ফেলি নক্ষত্রের ছিপি, এ আমায় কনে নিয়ে আলি, অন্ধকার চূর্ণ করিসহ ৩৪টি কবিতা ও প্রবন্ধের বই রয়েছে।