রাজশাহীতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে বেচাকেনা

আপডেট : ১৪ মে ২০২০, ২৩:২৫

নানা কৌশলে দোকানপাট খুলছেন রাজশাহী মহানগরীর ব্যবসায়িরা। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। অথচ দেশের বিভিন্ন স্থানেই দোকানপাট না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সভা করে দোকানপাট, মার্কেট বন্ধ থাকুক বলে মত দিয়েছেন রাজশাহীর সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান, সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দ। তবুও এই শহরের অনেক ব্যবসায়ীই দোকান খুলছেন। সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করেই তারা বেচাবিক্রিও করছেন।

এদিকে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজশাহী শহরে ফুটপাতে কোনো ব্যবসায়ী, হকার বা ফেরিওয়ালা বসতে পারবেন না। কিন্তু পুলিশ-প্রশাসনের সামনেই নগরীর সাহেববাজার এলাকায় রাস্তার দুই পাশে ফুটপাতে বসছেন শত শত হকার, ফেরিওয়ালা, শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রেতা, তালা-চাবি-ছাতা মেরামতকারী এবং বেল্ট বিক্রেতারা। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই তারা বেচাকেনায় মেতে উঠেছেন।

বুধবার সকালে থেকেই সাহেববাজার এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, আরডিএ মার্কেটের প্রধান ফটক বন্ধ। কিন্তু মূল ভবনের পাশে থাকা কাপড়ের দোকানগুলো থেকে পোশাক বিক্রি করা হচ্ছে। এ জন্য আরডিএ মার্কেটের পাশের সবগুলো গলিতে মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। এসব গলির ওপরেও বিক্রি হচ্ছে প্রয়োজনীয় নানা জিনিসপত্র।

কাপড়পট্টিতে দেখা যায়, দোকানের শাটার নামানো। তবে ভেতরে বেচাকেনা  চলছে। সাহেববাজারের মেসার্স করিম অ্যান্ড সন্স নামের একটি কসমেটিকসের দোকানের শাটার তুলে তিন তরুণীকে বের হতে দেখা যায়। এরপর শাটার তুলে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, ছোট্ট দোকানটির ভেতর ১০ জন তরুণী ও নারী। গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে তারা কসমেটিকস সামগ্রীর দরদাম করছেন। কর্মচারী ছিলেন দুই জন। বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন কর্মচারী জামাল হোসেন। এভাবে ক্রেতা ঢোকানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সবাই তো পোটলা (ত্রাণ) নিতে পারবে না। কিন্তু পেট তো আছে। তাই দোকানটা এভাবেই খুলে মালামাল বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা বলেন, শাটার তুলে দোকানে ঢোকার পর সেখানেই কেনাকাটা করতে হচ্ছে। এতে বিক্রেতারা সবকিছুর অস্বাভাবিক দাম নিচ্ছেন।

সাহেব বাজারের ফুটপাতে শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করছেন মানিক আলী। ফুটপাতে পসরা সাজানো নিষেধ তা জানেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানি। তা হলে কেন বসেছেন জানতে চাইলে মানিক বলেন, কী করব বলেন? এখন ঈদের বাজার। না বসলে হয়?

মোহনপুরের মৌগাছি থেকে কেনাকাটার জন্য আসা গৃহবধূ তাহমিনা খাতুন জানান, অটোরিকশায় চড়ে বিনাবাধায় তিনি শহরে এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। দোকানিরা বলেন, শহরের বাসিন্দারা খুব কমই কেনাকাটা করছেন। যারা কেনাকাটা করছেন তারা গ্রাম থেকে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের নিউমার্কেট রোডের অভিজাত পোশাকের শোরুমগুলোও খুলছে। শহরের অনেক তরুণ-তরুণী সেসব শোরুমে যাচ্ছেন কেনাকাটা করতে।

রাজশাহী ব্যবসায় সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার আলী বলেন, যেহেতু এই শহরের জনপ্রতিনিধিরা দোকান বন্ধ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তাই আমরাও এর পক্ষে। এরপরও এটা অমান্য করে যদি কেউ দোকান খোলেন তাহলে তার নিজ দায়িত্বেই খুলতে হবে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাটা খুব জরুরি। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন হলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।