করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান সাধারণ ছুটি আরো ১৪ দিন বাড়ল। বিভিন্ন নির্দেশনা মানা সাপেক্ষে আগামী ১৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সপ্তম দফায় ছুটি বাড়িয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। এই ছুটির মধ্যে শবেকদর ও ঈদের ছুটিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ছুটি চলাকালে ঈদের সময়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও প্লেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময় জরুরি সেবা ছাড়া অন্য যানবাহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। পরে দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়। ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কারোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৬ মের পর শর্তসাপেক্ষে বিদ্যমান ছুটি বৃদ্ধি করাসহ জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ/সীমিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৭ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে। সাধারণ ছুটির সঙ্গে ২১ মের শবেকদরের ছুটি, ২২, ২৩ ও ২৯ ও ৩০ মের সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৪, ২৫ ও ২৬ মের ঈদের ছুটি যুক্ত হবে।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়, সাধারণ ছুটি চলাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না। এ সময়ে সড়কপথে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল এবং অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং মহাসড়কে মালবাহী/জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ছাড়া অন্য যানবাহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রাইভেটকারসহ সাধারণ যানবাহন রাস্তায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই ঈদ করতে হবে। ঈদের আগে চার দিন ও ঈদের পর দুই দিনসহ মোট সাত দিন জরুরি সেবা ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না।
মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
সাধারণ ছুটি চলাকালে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় এবং এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। জেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই নিয়ন্ত্রণ সতর্কভাবে বাস্তবায়ন করবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, ওষুধ ক্রয়, চিকিত্সাসেবা, মৃতদেহ দাফন/সত্কার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না। এই ছুটি চলাচল/নিষেধাজ্ঞাকালীন জনগণ ও সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারিকৃত নির্দেশমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। রমজান এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দোকানপাটে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। বড়ো বড়ো শপিংমলের প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহন অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। দোকানপাট এবং শপিংমলগুলো আবশ্যিকভাবে বিকাল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। সাধারণ ছুটি/নিষেধাজ্ঞাকালীন জরুরি পরিষেবা যেমন-বিদ্যুত্, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা এবং এ-সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির বাইরে থাকবেন। সড়ক ও নৌপথে সব ধরনের পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন (ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল প্রভৃতি) চলাচল অব্যাহত থাকবে। কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্পপণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদেও ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে না। চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত চিকিত্সক ও কর্মী এবং ওষুধসহ চিকিত্সা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) এবং কেবল টিভি নেটওয়ার্কে নিয়োজিত কর্মীরা সাধারণ ছুটি/চলাচলে নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবেন। ওষুধশিল্প, উত্পাদন ও রফতানিমুখী শিল্পসহ সব কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রণীত ‘বিভিন্ন শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা’ নিশ্চিত করতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে শিল্প-কারখানা ও কৃষি উত্পাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে। সাধারণ ছুটিকালীন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। রমজান, ঈদ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা বিবেচনায় ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসসমূহ প্রয়োজনানুসারে খোলা রাখবে। সেই সঙ্গে তারা তাদের অধিক্ষেত্রের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং আওতাধীন অফিসসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারিকৃত ১৩ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এ সময় কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না। ঈদুল ফিতরের নামাজের ক্ষেত্রেও বর্তমানে বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে। উন্মুক্ত স্থানে বড়ো জমায়েত পরিহার করতে হবে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ছুটি শেষে সরকারি অফিস খোলার পর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শনিবারের ছুটি বাতিল হতে পারে। এ বিষয়টি এখনো সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
