চলে গেলেন কিংবদন্তি ঔপন্যাসিক দেবেশ রায়

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ০০:৫৫

স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক দেবেশ রায় আর নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১ ০টা ৫০ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গত বুধবার তাঁকে কলকাতার তেঘরিয়া অঞ্চলের ঊমা নার্সিং হোমে ভর্তিকরা হয়েছে। অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় চিকিত্সকরা তাঁকে আজ ভেন্টিলেশনে রেখেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন এই সাহিত্যিক। ভার্টিগোজনিত সমস্যার কারণে শারীরিক ভারসাম্যের অভাবেও ভুগছিলেন তিনি। বুধবার পানিশূন্যতার সমস্যা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।  দেবেশ রায়ের পুত্র সস্ত্রীক আহমেদাবাদে থাকেন। মৃত্যু সংবাদ পেলেও লকডাউনের কারণে দ্রুত কলকাতায় পৌঁছতে পারছেন না

বাংলাসাহিত্যের প্রকৃত অর্থেই ছকভাঙা ঔপন্যাসিক দেবেশ রায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় থেকেই প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। রাজনীতির সূত্রেই চষে ফেলেছেন তামাম উত্তরবঙ্গ। শিখেছিলেন রাজবংশী ভাষা। কলকাতা শহরেও ট্রেড ইউনিয়ন করতেন, ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল শ্রমিকসমাজের সঙ্গে। ‘আহ্নিক গতি ও মাঝখানের দরজা’, ‘দুপুর’, ‘পা’, ‘কলকাতা ও গোপাল’, ‘পশ্চাত্ভূমি’, ‘ইচ্ছামতী’, ‘নিরস্ত্রীকরণ কেন’ ও ‘উদ্বাস্তু’ এই আটটি গল্প নিয়ে দেবেশ রায়ের প্রথম গল্পের বই বেরিয়েছিল। ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি এক দশক পরিচয় পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস যযাতি।  তাঁর রাজনৈতিক বীক্ষার ছাপই পড়ে সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস তিস্তাপারের বৃত্তান্ততে। উত্তরবঙ্গের জীবনের বহতা ধরা আছে এই উপন্যাসে। তিনি বাস্তববাদী উপন্যাসের প্রচলিত ছক থেকে সরে গিয়ে বহুস্বরকে নিয়ে আসেন তার এ উপন্যাসে। ১৯৯০ সালে এই উপন্যাসের জন্যেই দেবেশ রায় সাহিত্য অ্যাকাদেমি পুরস্কার পান।