আরও ৩ রোহিঙ্গার করোনা পজিটিভ

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ১৯:২৩

কঠোর তদারকির পরও অবশেষে রোহিঙ্গাদের মধ্যে থাবা বসিয়েছে করোনা ভাইরাস। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পের এক তরুণ রোহিঙ্গার করোনা ‘পজিটিভ’ রিপোর্ট আসার একদিনের মাথায় শুক্রবার আরও ৩ রোহিঙ্গার করোনা পজিটিভ মিলেছে। এদিন পরীক্ষা করা  ১৮৪ জনের নমুনার মধ্যে নতুন ২১ জনের রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ পাওয়া যায়। এছাড়াও রামুর দুইজন পুরাতন করোনা রোগীর ফলোআপ রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ এলেও বাকি নেগেটিভ ১৬১ জনের রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া জানিয়েছেন, শুক্রবার  ‘পজিটিভ’ রিপোর্ট পাওয়া ২১ জন করোনা রোগীর মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় একজন, চকরিয়া উপজেলায় ১৫ জন, পেকুয়া উপজেলায় একজন, কুতুবদিয়ায় একজন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী তিনজন। 

এনিয়ে, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পরীক্ষায় ১৫ মে পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৬৮ জন। এতে কক্সবাজার জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৫২ জন।

এদিকে, দীর্ঘ কঠোরতার পরও ক্যাম্পের গাদাগাদি বাসে করোনা পজিটিভ আসায় স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করলেও শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মাহবুব আলম তালুকদার হতাশ বা আতঙ্কিত নন বলে উল্লেখ করেছেন। রোহিঙ্গাদের মাঝে সামনে আরও আক্রান্ত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসার মাধ্যমে করোনাকে জয় করার প্রস্তুতি ক্যাম্প এলাকায় নেওয়া রয়েছে। বিশ্বের অনেক উন্নত রাষ্ট্রে যেখানে করোনা অপ্রতিরোধ্য সেখানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনার হানাকে বড় করে দেখা উচিত নয়। সচেতনতার সাথে ঐক্যবদ্ধ ভাবে করোনা মোকাবিলা করাই এখন লক্ষ্য বলে দাবি করেছেন তিনি।  

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার বলেন, ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের মানবিক আশ্রয়ে রয়েছেন। তাই ক্যাম্পে করোনার সংক্রমণ রোধে শুরু থেকে প্রচেষ্টা ছিল এবং আমরা দীর্ঘ দু'মাস সফলও ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ যেহেতু ক্যাম্পে করোনা সনাক্ত হয়েছে সেহেতু তা আরআরআরসি অফিস দেখভাল করছে। ক্যাম্পে আগে থেকে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্যাম্পে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আগের মতোই কঠোরতায় কাজ চলমান রয়েছে। আরআরআরসি অফিসের সাথে জেলা প্রশাসন ও শৃংখলাবাহিনীর সমন্বয় আগের মতোই রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এডিসি আশরাফুল।                           

ইত্তেফাক/এসি