আসছে বাজেট

করোনা-পরবর্তী অর্থনীতির রূপরেখা থাকতে হবে

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ২১:০৫

আলি জামান

দেশে করোনার পরিস্থিতিতে সরকার পরের বছরের জন্য বাজেট দিতে যাচ্ছে ১১ জুন। সেই বাজেটে কি থাকছে, তার কিছু কিছু বিষয় গণমাধ্যম এরই মধ্যে জানিয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের আকার হবে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। আগের বছর ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। বড়ো বাজেট মানে বড়ো কর। তাই রাজস্ব তথা কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আগের বছর যা ছিল ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা। করোনা ছাড়াও আরো কিছু বাস্তবতায় এবারের টার্গেটকৃত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা যে অনেকটাই অর্জিত হবে না—তা নিশ্চিত। আবার করোনা-পরবর্তী দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যেখানে একজন স্বল্প বুঝদার মানুষের কাছেও দৃশ্যমান, তারপরেও বড়ো রাজস্ব আদায়ের টার্গেট নেওয়া হবে বলে বোঝা যাচ্ছে।

কর রাজস্ব তথা এনবিআর খাতের আদায় হয় মূলত আয়কর, ভ্যাট আর আমদানি শুল্ক থেকে। দেশের অর্থনীতি কিছুটা হলেও যেখানে মন্দায় পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে—সেখানে এই খাতের আয় যে তেমন বাড়বে না, তা কিন্তু ধারণা করা যায়। কিন্তু এই ধারণা অমূলকও হতে পারে। দুই কারণে- ১) অর্থনীতি যতটা খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে—ততটা হয়তো হবে না। ২) যদি দুর্নীতিমুক্ত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অসম্ভব হবে না। আমাদের কর-জিডিপির অনুপাত ১:১০। উন্নত দেশে আরো অনেক বেশি। সে উদাহরণ বাদ দিলেও পার্শ্ববর্তী নেপাল শ্রীলংকায় এটা প্রায় ১:২০। কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি কম থাকায় এটা সম্ভব হয়েছে। আমাদের অবস্থা কি? আমাদের অবস্থা যে কি, তার নমুনা সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রকাশিত সংবাদে কিছুটা হলেও পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো কর ফাঁকির ছোটো ছোটো নমুনা মাত্র। এগুলো পুকুর চুরি। অনেক সাগর চুরিও হয়। রাজস্ব বিভাগের তা অজানা নয়।

করোনা-উত্তর অর্থনীতির রূপরেখা নিশ্চয় এই বাজেটে থাকবে। সেখানে সংকট উত্তরণের জন্য কিভাবে রূপরেখা আঁকা হয়, তা দেখার আগ্রহ দেশের মানুষের থাকবে। স্বভাবতই মানুষ প্রত্যাশা করবে যে, কৃচ্ছ তা সাধন আর দুর্নীতি রোধ হবে মূল কৌশল। আর থাকবে আর্থিক ব্যবস্থাপনা। করোনা-পরবর্তীকালে কিছু বৈদেশিক ঋণ আমরা হয়তো পাবো। তবে তার পরিমাণ খুব বেশি হবে বলে আশা করা ঠিক হবে না। আগের মতো উন্নত দেশগুলোর উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ঋণ সঙ্গত কারণেই পাওয়া যাবে না, এটা ধরে নেওয়া যায়।

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, আইডিবি, এডিবি বা কোনো কোনো দেশ কিছু ঋণ দেবে। তবে সেই ঋণ তারা দেবে বিশেষ কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নের শর্তেই। তাই নির্ভর করতে হবে আমাদের নিজস্ব সম্পদ আর সামর্থ্যের ওপর। কেবল আয় নয়, ব্যয় ব্যবস্থাপনাটাও করতে হবে নিখুঁতভাবে। উন্নয়নের নামে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পুরোটাই বন্ধ করতে হবে। দামি গাড়ি কেনা, অপ্রয়োজনে বিদেশ সফর না করা, সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা সৃষ্টির সংস্কৃতি চালু করার সময় কিন্তু এসে গেছে। তবে এর জন্য প্রথমেই দরকার হবে দুর্নীতির কারণে কিছু কিছু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের। প্রশ্ন হলো—তা কি সম্ভব হবে? আর একটা কথা। মন্দার কারণে অনেক দেশে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কৃচ্ছ তা সাধন ও বেতনভাতা কমিয়ে নেওয়ার চিত্রও দেখা যাচ্ছে।

 লেখক:সভাপতি, এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ