অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ২১:৫২

এইচ টি ইমাম

আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিল জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের। সদালাপী ও হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি স্বাধীনতার মূল চিন্তাধারা থেকে কখনোই বিচ্যুত হননি। অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনায় বিশ্বাসী আনিসুজ্জামান সারা জীবন ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। জাতির ক্রান্তিলগ্নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনা জাতিকে পথ দেখিয়েছে। আর অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক ও বাহক। মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিটি সারা জীবন মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। তিতনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এক পরম শিক্ষক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থা থেকেই আমার পরিচিত ছিলেন আনিসুজ্জামান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকা অবস্থায় ’৭১-এর মার্চ-এপ্রিল মাসে রামগড়ে প্রতিরোধযুদ্ধের সঙ্গে তিনিও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আগরতলা হয়ে কলকাতায় গমন করেন। সেখান থেকে তিনি মুজিবনগরে গঠিত প্রথম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া ভাষা আন্দোলন ও উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালে ড. কুদরত-এ-খুদা জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য হিসেবে অবদান রাখেন তিনি। বাংলা ভাষার ওপর অগাধ দখল থাকায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান জাতির পিতার সরাসরি দিকনির্দেশনায় বাংলায় সংবিধান প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

 স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার অবদান ছিল অসামান্য। দৃঢ়চিত্তের অধিকারী এই মহান ব্যক্তি সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ছিলেন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি সারা জীবন সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী শক্তির ঐক্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখেছেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গী কখনোই পাল্টে যায়নি, আপোষ করেনি। জাতির বিবেক ও শিক্ষক বরেণ্য এই শিক্ষাবিদের চেতনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা তাকে যথাযথ সম্মান দেখাতে পারব। তিনি ছিলেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় একজন শিক্ষক-মানুষ।

ক্ষণজন্মা এই অসম্ভব গুণী মানুষের মৃত্যুতে বাঙালি জাতি হারাল একজন অভিভাবককে। তার অবদান এদেশের জনগণ চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে। আমি তার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করছি।

লেখক : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা