আজ ২২ রমজান। দেখতে দেখতে রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমাদান বা রমজান সমাপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই রমজান মাসে অনেক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। এই রমজান মাসেই ফতেহ মক্কা বা মক্কা বিজয় হয়েছিল। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামের চূড়ান্ত বিজয় সাধিত হয়েছিল। প্রিয়নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ মদিনা হিজরত করেন আট বছর পূর্বে। এখানে একটি আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মক্কার কুরাইশ কাফির মুশরিকরা মদিনা রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা শুরু করে। যুদ্ধের পর যুদ্ধ হয়। সব যুদ্ধেই ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডিন হয়। ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে ১০ বছর মেয়াদি এক শান্তিচুক্তি হয়, যা হুদায়বিয়ার সন্ধি নামে পরিচিত। দুই বছর যেতে না যেতেই মক্কার কুরাইশ কাফির মুশরিকরা সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করলে প্রিয়নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ ১০ হাজার সাহাবি সমন্বয়ে গঠিত এক বিরাট বাহিনী নিয়ে মক্কা গমন করেন। কাবা শরিফে এবং এর চত্বরে স্থাপিত মূর্তিগুলো অপরাসিত হয়। আল্লাহু আকবর উচ্চারণে মুখরিত হয়ে যায় চতুর্দিক। ঘোষিত হয় সাধারণ ক্ষমা। সেই সাধারণ ক্ষমার দৃষ্টান্ত দ্বিতীয়টি নেই। উচ্চারিত হয় : সত্য এসেছে, মিথ্যা দূর হয়েছে, মিথ্যা তো দূর হবারই।
মক্কা বিজয়য়ের প্রায় ৪০ বছর পর ১১ বছর বয়সে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ও ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলি রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু খারেজি সদস্য আবদুর রহমান ইবনে মজলুমের তরবারির আঘাতে আহন হন এবং তিন দিন পর শহিদ হন। তার মাজার শরিফ কোথায় তা আজও অজ্ঞাত। তার অসিয়ত অনুযায়ী তার লাশ মুবারক কাফন পরিহিত অবস্থায় একটি উটের পিঠে রাখা হয়। সেই উট রাতের অন্ধকারে কোথায় যে মিলিয়ে যায় তা কেউ জানতে পারেনি। এর বহু বছর পর ৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ কুফার পাঁচ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নজফ আশরফ নামক স্থানে হজরত আলি করমাল্লাহু মাজার শরিফ আবিষ্কার করেন। নজফে মাশহাদে আলি রয়েছেন। হজরত আলি করমাল্লাহু ওয়াজহাহু ছিলেন খুবই উঁচু মাপের কবি। তাঁর গ্রন্থরাজির মধ্যে নাহ জাতুল বালাগা ও দিওয়ান উল্লেখযোগ্য। ইলমে তাসাওয়উফের মূলধারার অনেকাংশ প্রিয় নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ হতে তার মাধ্যমে সম্প্রসারিত হয়েছে। আরবি ব্যাকরণের মূল উদ্যোক্তা তিনি। তাকে আরবি ব্যাকরণের জনকও বলা হয়।
লেখক :পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ
