রাজশাহীর দুর্গাপুর, পুঠিয়া, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার আমচাষিরা গতকাল শনিবার থেকে বাগানের আম নামানো শুরু করেছেন। অবশ্য এর আগেই আম নামানোর কাজ শুরু করেছে সাতক্ষীরার চাষিরা। তবে প্রতি বছর বাগান থেকে আম নামানোর সময় তাদের ভেতর যে উত্সাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ কাজ করে এবার তা নেই। এবার সেখানে ভর করেছে শঙ্কা। করোনার কারণে এবার বিদেশে আম রপ্তানি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন চাষিরা। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সে চিন্তায় রীতিমতো তাদের ঘুম চলে গেছে। ইতিমধ্যে তরমুজচাষিদের কান্না তাদের এই ভয়কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু আম, তরমুজ নয়, লিচু, কাঁঠালেও একই অবস্থা।
মৌসুমি ফল চাষি এবং ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার তারা লাভ নিয়ে ভাবছেন না। ফলের উত্পাদন খরচ উঠলেই তারা খুশি। বাগান থেকে তারা যেন নির্বিঘ্নে রাজধানীসহ সারাদেশের মোকামগুলোতে ফল পাঠাতে পারেন—সরকার যেন সে ব্যবস্থা করে দেয়, এই অনুরোধ জানান তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বছর দেশে জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাসে ৬০ শতাংশ ফল উত্পাদিত হয়। অথচ দেশের মানুষ এখন করোনা সংকটে বিপর্যস্ত। হয়ে পড়েছে কর্মহীন। কমে গেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। এতে ফল খাওয়ার প্রবণতা এবার কম হতে পারে। এতে চাষিদের ফলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে এক ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে জানিয়েছেন জেলায় আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনা সংকট। অথচ গত বছরের তুলনায় এবার আড়াই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আমের আবাদ উত্পাদন হয়েছে। এ বছর জেলায় আমের আবাদ হয়েছে ৩৩ হাজার ৩ হেক্টর জমিতে। আম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার মে.টন। ২০১৯ সালে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৩৯ হাজার মে.টন। আম বাগানের জমির পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৮২০ হেক্টর।
আম বাগানের মালিকরা বলেছেন, প্রতি বছর এ সময় বাগানগুলোতে আম কেনার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা এলেও এবার সে চাহিদা নেই। আমবাগান ও আড়তগুলোতে নেই কর্মচাঞ্চল্য। আড়তগুলো বন্ধ থাকায় হাজার হাজার মৌসুমি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতি বছর দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার আম উত্পাদন হয়। সেই সঙ্গে এই শিল্পের সাথে প্রায় ৬ লাখ মানুষের জীবনজীবিকা জড়িত। যদি করোনার কারণে আমের দাম না পান চাষীরা তাহলে একদম পথে বসে যাবেন তারা।
কানসাট আম আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু বলেন, করোনার কারণে এবার সব বন্ধ রয়েছে। ব্যাপারীরাও খুব বেশি যোগাযোগ করছে না। চাষিরা আমের দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
আমের পাশাপাশি লিচু নিয়েও শঙ্কায় চাষিরা। কারণ, লিচু পাকার পর দ্রুত শেষ হয়ে যায়। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে আসবে এই রসালো সুস্বাদু ফলটি। কিন্তু করোনা সংকটে কি ন্যায্যমূল্য পাবেন লিচুচাষিরা।
