গোলাম মোস্তফা আনছারী, স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুর জেলাকে বিগত কয়েক বছর ধরে সমৃদ্ধ করে তুলেছে সুস্বাদু, মিষ্টি ও রসালো ফল হাড়িভাঙ্গা আম। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এর কদরের কমতি নেই। আর এই আম বিক্রি করে তারা অনেক লাভবান হন। কিন্তু এবার সেই আশা শঙ্কা হয়ে দেখা দিয়েছে মরণঘাতী করোনা ভাইরাস, সেই সঙ্গে রয়েছে বৈশাখী ঝড়ের প্রভাব। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে স্বপ্নভঙের আশঙ্কা করছেন আমচাষিরা।
হাড়িভাঙ্গা আম সম্প্রসারণের প্রধান উদ্যোক্তা মিঠাপুকুরের আমচাষি আব্দুস সালাম সরকার জানান, তিনি এবার ১৪ একর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ করেছেন। বিগত বছর এই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ আমচাষির বাগান কিনে নিতেন। এছাড়াও কীটনাশক ব্যবসায়ীরা বাকিতে কীটনাশক দিয়ে যেতেন। কিন্তু করোনার কারণে এবারে কীটনাশক বাকিতে পাওয়া যায়নি এবং শ্রমিক সংকটও ছিল। ফলে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে চাষিদের। এছাড়া কালবৈশাখী ঝড় তো রয়েছেই।
গত সপ্তাহের প্রবল ঝড়ে লক্ষাধিক মণ আম পড়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। তিনি আরো জানান, দুই-একজন করে ব্যবসায়ী মুঠোফোনে যোগাযোগ করছেন। তারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বড়ো বড়ো ব্যবসায়ীরা বাগান কিনবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, কৃষক যাতে এই আমের ন্যায্যমূল্য পায় সেই লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ আম বাজারজাতকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। চাষিদের সঙ্গে বড়ো বড়ো ব্যবসায়ীদের অনলাইনে যোগাযোগ করানো হবে। এরই মধ্যে আমচাষিদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। তবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহের আগে হাড়িভাঙ্গা আম স্থানীয়ভাবে বাজারজাত হলে তা না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
