এএফসি বল ঠেলেছে বাফুফের কাছে
স্পোর্টস রিপোর্টার
করোনা ভাইরাসের কারণে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। সেই লিগ নিয়ে এত দিন অনেক জল ঘোলা হয়েছে। লিগ হবে কি হবে না। লিগের ভাগ্য নিয়ে ১৩ ক্লাবের মধ্যে ১১ ক্লাব গত ২৫ এপ্রিল লিগ কমিটির সভায় দাবি তুলেছিল এই লিগ যেন আর না হয়। শেষ পর্যন্ত সেটাই হতে যাচ্ছে। অন্য কোনো সিদ্ধান্ত যদি না হয় তাহলে আজ বাফুফের জরুরি সভায় লিগ স্থগিত লিগ সমাপ্তই ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাফুফে।
লিগের ভাগ্য নিয়ে এএফসির কাছেও জানতে চেয়েছিল বাফুফে। এএফসি উলটো বাফুফের দিকে বল ঠেলে দিয়েছে। এএফসি একটা সিদ্ধান্ত দিলে সেই মোতাবেক বাফুফে সিদ্ধান্ত নিত। বাফুফে জানতে চেয়েছিল লিগ না হলে আগামী বছর এএফসি কাপ ফুটবলে বাংলাদেশের কোটা কমে যাবে নাকি নির্ধারিত দুটা কোটা থাকবে। সেই হিসাব করে লিগের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চেয়েছিল বাফুফে। এএফসি বলেছে, তোমরা সিদ্ধান্ত নাও।
বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানিয়েছেন, তিনি গতকাল বিকালে এএফসির সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বাফুফেকে সিদ্ধান্ত নিতে জানিয়ে দিয়েছে। সোহাগ বললেন, ‘এএফসি কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে। আমরা লিগ সমাপ্ত করব কি না সেটা নিয়েই আমাদের জিজ্ঞাসা ছিল। তারা উলটো জানিয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতি আরো অনেক দেশে রয়েছে। কোনো দেশকেই তারা সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। সবার কথাগুলো এক টেবিলে নিয়ে একবারে আলোচনা হবে। সেটাই যে হবে তবে তার নিশ্চয়তা নেই।’ এএফসির সরাসরি না বললেও তাদের কথায় স্পষ্ট বোঝা যায় এখন জীবন বাঁচাও। এএফসি কাপে কে খেলবে, সেটা নিয়ে এখনই তারা নিশ্চিত করতে পারবে না। সোহাগ বলেছেন, ‘এএফসি আমাদেরকে বলেছে তোমরা সিদ্ধান্ত নাও। আমরা তোমাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে চেষ্টা করব। তোমাদের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তগুলো পাঠিয়ে দিলে আমরা সেটা নিয়ে আমাদের এএফসির বোর্ড সভায় তুলব। তখন চূড়ান্ত করা যাবে।’
লিগ বন্ধ হয়েছে সেই ১৯ মার্চ। করোনার কারণে বিশ্ব পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে গেলে ক্লাবগুলো তাদের বিদেশিদেরও বিদায় করতে শুরু করে। কোনো ক্লাব চুক্তি শেষ করে। কোনো ক্লাব প্রাপ্য বেতন দিয়ে বুঝিয়ে বাড়ি ফেরতে পাঠায়।
বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস বিদেশি কয়েকজনকে রেখে দিয়েছিল। ক্লাবগুলোর কথা হচ্ছে যদি লিগ না-ই হয় তাহলে কেন এত দিন সিদ্ধান্ত নিতে পারল না বাফুফে। প্রথম দিকেই যদি বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো ক্লাবগুলো অর্থিক ক্ষতিটা কমে যেত।
