মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল নতুন সংক্রমিত ৯৩০

আপডেট : ১৬ মে ২০২০, ২৩:০৪

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে দেশে প্রথম মৃত্যুর পর দুই মাসের মাথায় মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেল, আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছাল প্রায় ২১ হাজারে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৬৭৮২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৩০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৯৯৫ জন। আরো ১৬ জন গত এক দিনে মারা গেছেন। ফলে কোভিড-১৯ এ দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৪ জন হলো।

সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন উঠেছেন আরো ২৩৫ জন। সব মিলয়ে এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ১৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা শনিবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন,       তাদের সবাই পুরুষ। তাদের মধ্যে সাত জন ছিলেন ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দা। মহানগরের বাইরে ঢাকা জেলার দুই জন, চট্টগ্রাম বিভাগের দুই জন, রংপুর বিভাগে দুই জন, গাজীপুরের এক জন, মুন্সীগঞ্জের এক জন এবং নরসিংদীর এক জন। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ৭০ বছরের বেশি। তিন জনের বয়স ছিল ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ছয় জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরেরর মধ্যে, পাঁচ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং এক জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকার মধ্যে ২০টি ল্যাব থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ১২টি ল্যাবে এবং ঢাকার বাইরের ২১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস শনাক্তে আরো ৬ হাজার ৫০১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে ৬ হাজার ৭৮২টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৯৪টি।

গত শুক্রবারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন মারা গেছেন। আট হাজার ৫৮২টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২০২ জনের দেহে, যা সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা কমলেও বেড়েছে মৃত্যু, যা একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানিরও রেকর্ড। এর আগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ১৯ জনের। এটি জানানো হয় গত ১৩ মের বুলেটিনে। শনিবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৩৪৯ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৩ হাজার ৪৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৫১ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৫৩০ জন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত্যু মিছিল বাড়ছেই। দিন যত যাচ্ছে, সংক্রমণ শনাক্ত ও মৃত্যু হারও বাড়ছে। তথ্য-পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১০ হাজার ব্যক্তি শনাক্ত করতে যেখানে ৫৮ দিন সময় লেগেছিল, সেখানে পরের ১০ হাজার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে মাত্র ১১ দিনেই। এর মধ্যে আবার শেষ ৫ হাজার সংক্রমণ শনাক্ত হতে সময় লেগেছে মাত্র চার দিন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওই দিনসহ মার্চ মাসের ২৪ দিনে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫১ জন। এরপর গত ৬ এপ্রিল সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় একশ জনে। সেটি ছিল প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ৩০তম দিন। অর্থাত্ একমাস সময় লাগে ১০০ জন শনাক্ত হতে। প্রথম ১০০ সংক্রমণ শনাক্ত হতে ৩০ দিন লাগলেও ৩৮ দিনে মথায় ১ হাজার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। অর্থাত্ পরের ৯০০ সংক্রমণ শনাক্ত হতে সময় লাগে মাত্র আট দিন। এই সময়ের মধ্যেই ৯ এপ্রিল প্রথম একদিনে ১০০ কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয় দেশে। গত ২৬ এপ্রিল কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ৫ হাজার পেরিয়ে যায়। সেদিন ছিল প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ৫০তম দিন। সেই হিসাবে ৩৮ দিনে ১ হাজার সংক্রমণ শনাক্ত হলেও পরের ৪ হাজার সংক্রমণ শনাক্ত হয় মাত্র ১২ দিনে। সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার গতি এরপর ক্রমেই বেড়েছে।