করোনা চিকিত্সায় দেশে প্লাজমা সংগ্রহ শুরু

আপডেট : ১৬ মে ২০২০, ২৩:০৪

কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিত্সায় পরীক্ষামূলকভাবে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের জন্য সেরে ওঠা রোগীদের কাছ থেকে সিরাম সংগ্রহ শুরু করেছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগে কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা দুজন চিকিত্সক প্লাজমা দান করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ খান বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে সংগ্রহ করা এই প্লাজমা আগামী সপ্তাহে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রয়োগ করা যাবে।

জানা গেছে, এ সপ্তাহে আরো প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে। সংগ্রহ করা প্লাজমায় অ্যান্টিবডি পরিমাপ করা হবে। এ চিকিত্সা প্রয়োগের অনুমোদনের প্রক্রিয়াও এই সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে। যারা প্লাজমা থেরাপি দেবেন, তাদের প্রশিক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, প্লাজমা দেওয়ার আগে কিছু পরীক্ষাও করতে হয়। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যে স্পেন থেকে চলে এসেছে। টেস্ট করতে যে পরীক্ষাগুলো করা হয়, সেটা অনেক ব্যয়বহুল। অনেকগুলো নমুনা সংগ্রহ করার পর একসঙ্গে এই পরীক্ষা করা হবে। নইলে কিটগুলো নষ্ট হবে।

অধ্যাপক ডা. এম এ খান বলেন, ‘এই কাজ এগিয়ে নিতে এখন তাদের সামনে দুটো চ্যালেঞ্জ—একটি দাতা সংগ্রহ করা, অন্যটি অর্থের ব্যবস্থা করা। এক জনের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করতে খরচ হয় ১২ হাজার টাকা। এছাড়া পরীক্ষায়ও আরো কিছু টাকা খরচ হয়। ভবিষ্যতে আমরা যখন এটার পরিসর বাড়াব, তখন পরীক্ষার জন্য আরো কিট লাগবে। সেজন্য ফান্ড দরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। তবে সরকারি ব্যাপার, কিছুটা সময় দরকার।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রথম দিন প্লাজমা দিয়েছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. দিলদার হোসেন বাদল। গত ২৫ এপ্রিল তার কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়ে; তিনি সুস্থ হন গত ৯ মে। প্লাজমা থেরাপির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কথা শুনে তিনি প্লাজমা দিতে উত্সাহিত হন। শনিবার সকালে প্লাজমা দিয়ে আবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানান ডা. দিলদার। তিনি বলেন, ‘এই চিকিত্সা পদ্ধতি নিয়ে উন্নত বিশ্বে ট্রায়াল হয়েছে। বাংলাদেশে আমিও প্লাজমা থেরাপির অংশ হতে চাই। আমার কারণে একজন মানুষেরও যদি উপকার হয়, সেটাই হবে বড়ো পাওয়া।’ শনিবার প্লাজমা দেওয়া দ্বিতীয় চিকিত্সক হলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের রওনক জামিল পিয়াস।

কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের চিকিত্সায় সেরে ওঠা ব্যক্তিদের রক্তের প্লাজমা অসুস্থদের দেওয়ার চিকিত্সা পদ্ধতি প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ নানা দেশ। চীনেও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। রক্তের তরল, হালকা হলুদাভ অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। তিন ধরনের কণিকা ছাড়া রক্তের বাকি অংশই রক্তরস।

বাংলাদেশেও বিষয়টির সম্ভাব্যতা দেখতে এপ্রিলের শুরুতে আগ্রহের কথা জানান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের হেমাটোলজির অধ্যাপক ডা. এম এ খান। ১৯ এপ্রিল তাকে সভাপতিত্ব করে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাজহারুল হক তপন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী সদস্য হিসেবে আছেন ঐ কমিটিতে।