জাতীয়করণ চায় বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ১৬ মে ২০২০, ২৩:০৬

করোনা দুর্যোগে চরম বিপাকে পড়েছেন সরকারি না হওয়া প্রাথমিকের প্রায় ৪ হাজার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এই ৪ হাজার প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১৬ হাজার শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। বিনা বেতনে শিক্ষকতা করলেও জীবিকা নির্বাহের জন্য এসব শিক্ষক খণ্ডকালীন কাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, টিউশন, কৃষি কাজসহ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চলমান পরিস্থিতিতে এসব কাজও বন্ধ রয়েছে।

ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাতীয়করণের দাবি করেছেন তারা।

সংগঠনটির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ খোকন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের আর্থিক সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। জীবিকার জন্য অন্য কাজ করতে হতো। করোনার কারণে এখন তাও বন্ধ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা আবেদনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, করোনা মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি কষ্টে দিন যাপন করছেন সরকারি বেতন ছাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  শিক্ষকরা। সব শ্রেণির মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী তরফ থেকে কিছু না কিছু জুটলেও, এখনো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কপালে জোটেনি কোনো কিছু। অথচ আর কদিন পর ঈদ পালিত হবে। দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষকতা করলেও আজও মেলেনি তাদের ঘরে ঈদের আনন্দ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রণোদনা আবেদন করেও এখন পর্যন্ত জোটেনি প্রণোদনা। তাই আগামী বাজেটে এই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কাছে। সরকারের এই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করতে কত টাকা লাগবে তাও তুলে ধরেছেন তারা।

মূল বেতন বাড়িভাড়াসহ একজন শিক্ষকের পেছনে বছরে ব্যয় হবে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা। সে হিসাবে ১৬ হাজার ৬৩৬ জন শিক্ষকের পেছনে সরকারের ব্যয় হবে ৩৫৮ কোটি, ৯০ লাখ, ৫০ হাজার, ৬৪০ টাকা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষকতা পেশাকে মহান পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ায় কোথাও হাত পাততে পারছেন তারা। তাই অনেক সময় অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হয় এই মহান পেশার লোকদের। তাই এই অর্থবছরে প্রাথমিক স্তরের এই স্কুলেগুলোর  জন্য বরাদ্দ চেয়ে এই আবেদন করেন তারা।