শ্রদ্ধাঞ্জলি

চিরকালের আনিসুজ্জামান

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ১৩:২৪

বিশ্বজীবনের কঠিন দুঃসময়ে পৃথিবীর সকল বাঙালিকে নিঃসঙ্গ করে দিয়ে চলে গেলেন বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ব্যক্তি প্রতিভার মূল্যায়নে একেকজন মনীষীর ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড ব্যবহার করি, কিন্তু একটা জাতির ইতিহাসের সমগ্রতার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি প্রতিভার বিচার তা থেকে স্বতন্ত্র হতে বাধ্য। 

আনিসুজ্জামান বাঙালির সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সৃষ্টিশীলতার দীর্ঘ ইতিহাসের অনিবার্য অংশে পরিণত হয়েছেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও তার পরবর্তী বাঙালি জীবনের প্রতিটি রক্তাক্ত ও আলোকোজ্জ্বল ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা কেবল পরিস্থিতিগত ছিলো না; ছিলো অস্তিত্বগত ও সমগ্র জীবনশৃঙ্খলার সক্রিয়তায় বিশিষ্ট।দেশভাগের রক্তাক্ত স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা দ্বারা পারিবারিকভাবেই তারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানবাদী রাজনীতির অন্তর্নিহিত ঘোর অন্ধকার ও অন্তঃসারশূন্যতা উপলব্ধির ক্ষেত্রে তার মধ্যে কোনো দ্বিধা কাজ করেনি। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে বর্ণিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক বিবেচনাবোধের সঙ্গে এ ক্ষেত্রে তার আশ্চর্য সঙ্গতি লক্ষ্য করি। 

আনিসুজ্জামানের নিজের ব্যক্তিকথা ও বিভিন্ন রচনা থেকে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। যে কারণে লক্ষ্য করি, ১৯৪৮ সালে সূচিত বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালি জীবনের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তার সংশ্লিষ্টতা কর্ম ও সাধনার অভিন্ন ধারায় মিলে গেছে। ব্যক্তির দর্শন একদিনে সৃষ্টি হয় না; কর্ম, অভিজ্ঞতা ও সাধনার মধ্য দিয়ে তার পরিপূর্ণতা। খুব কম ক্ষেত্রেই ব্যক্তি চেতনায় কালের প্রতিধ্বনি লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আনিসুজ্জামান হলেন সেই বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি কেবল কালচেতনাকে নয়, ভাবীকালের সম্ভাবনার দর্শনকেও নিজ সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্রে ধারণ ও লালন করেছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য ফলাফল নিয়ে আনিসুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। অন্যদের ক্ষেত্রে যা কেবল ঘটনা, আনিসুজ্জামানের ক্ষেত্রে সেটা ছিলো সমগ্র জীবন-পরিকল্পনার প্রাথমিক প্রস্তুতি। তার জীবন ও কর্ম উপলব্ধির জন্য শিক্ষাজীবনের প্রকৃতিটা দেখা যাক। 

আনিসুজ্জামানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কলকাতার পার্ক সার্কাস হাইস্কুলে। এই বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ চলাকালে দেশভাগের পর চলে আসেন বাংলাদেশের খুলনায়। ভর্তি হন খুলনা জেলা স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে। এক বছর পর ঢাকায় চলে আসেন পরিবারের সঙ্গে এবং প্রিয়নাথ হাইস্কুলে (বর্তমান নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে এ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৫৩ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৫৭ সালে একই বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সে সময় বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও শিক্ষক ছিলেন মুনীর চৌধুরী। 

১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাংলা একাডেমির গবেষণা বৃত্তি লাভ করেন। একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজ আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারায় ১৭৫৭-১৯১৮ বিষয়ে পিএইচডি শুরু করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের গবেষণা বৃত্তি লাভ করেন। তার পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন হয় ১৯৬২ সালে। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উনিশ শতকের বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাস: ইয়ং বেঙ্গল ও সমকাল বিষয়ে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাকে বিশ্বজনীন রূপ দানের ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। মেধা, অধ্যবসায় ও সাধনায় তিনি খ্যাতির শীর্ষ স্পর্শ করেছিলেন। কিন্তু ছিলেন এসবেরও অধিক। বাঙালির জাতীয় জীবনের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেই কেবল নয়, প্রয়োজনীয় মুহূর্তে প্রতিবাদেরও প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। মানুষ তার সম্পর্কে যতোটা জানে, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু ছিলেন আনিসুজ্জামান। বৈশ্বিক মহামারি করোনার এই মৃত্যুমুখ, বিপন্ন, বিপর্যস্ত ও শোকাক্রান্ত বিশ্বপটভুমিতে তার প্রয়াণ তার ভক্ত-অনুসারীদের নিঃসঙ্গতাকে বাড়িয়ে দিল বহুগুণে। তার মৃত্যুতে বিশ্ব বাঙালি এমন একজন অপরিহার্য অভিভাবককে হারালো, যার কোনো বিকল্প নেই। 

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাঙালি ও বাঙালিত্বের ধারণা ও স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে তিনি ছিলেন সৃষ্টিশীল প্রেরণা ও গতির অন্যতম কর্ণধার। কেবল বাংলাদেশ নয়, ভারতের বাংলাভাষী বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রসারে তার সাধনা ও কর্মতৎপরতার মূল্য অপরিসীম। তিনি ছিলেন আমৃত্যুর সাধক।
বাঙালির মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিচিন্তার বাতিঘর ছিলেন আনিসুজ্জামান। তার মৃত্যু বাংলাদেশ, বাঙালি, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জগতে এক অতল শূন্যতার সৃষ্টি হলো, যা অপূরণীয়। আর আমরা হারালাম সংকট-সংগ্রামের সার্বক্ষণিক প্রেরণা। 

তিনি ছিলেন, বাঙালির সত্য ও নির্ভরতার অজেয় প্রতীক; প্রচলিত নষ্ট মত ও পথের বিরুদ্ধে নির্ভীক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। ছিলেন বাংলা ভাষাভাষী সকল বাঙালির অগ্রগামী চেতনার আলোকবর্তিকা। কায়মনে বাঙালি হয়ে তিনি বিশ্ব বাঙালির চরিত্রে যেমন রূপ ধারণ করেছিলেন, তেমনি, অন্যদের ইতিবাচক রূপান্তরেও ছিলেন অনিঃশেষ প্রেরণা। বাঙালি চরিত্রকে অসাম্প্রদায়িক রূপ দানে নিজ জীবন ও কর্মধারাকে পরিচালিত দুর্মর নিষ্ঠা, সাধনা ও সীমাহীন মমতায়। 

আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। ৪৭ পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বশিরহাট ছিল তার পৈত্রিকভূমি। দেশ বিভাগকালে পরিবারের সদস্যদের সাথে তিনি তৎকালীন পূর্ববাংলায় চলে আসেন। জীবন বিন্যাসের এই পরিবর্তন অন্য অনেকের মতো তার দৃষ্টিভঙ্গিকে পশ্চাৎমুখী না করে জীবনাভিজ্ঞতা ও বোধের ইতিবাচকতায় করে তুলেছে অনেক বেশি সম্মুখগামী। জীবন ও সমাজ রূপান্তরের অনিবার্য গতির তরঙ্গে পূর্ব বাংলায় আগমনের কাল থেকেই তিনি বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল কণ্ঠস্বরের অনুগামী হয়ে ওঠেন। পরিণত হন এ দেশের সকল প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ যোদ্ধাদের অন্যতম একজনে। 

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান অল্প বয়সেই বাঙালির প্রথম সাংস্কৃতিক যুদ্ধ ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। কিন্তু সেই যুদ্ধ অব্যবহিত কালেই সাংস্কৃতিক স্তর অতিক্রম করে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন পরিসরে সম্প্রসারিত হয়। গণতন্ত্রের কবর রচনাকারী স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনকালে রবীন্দ্রসসঙ্গীত নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার ঘোর বিরোধিতার যুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন আনিসুজ্জামান। ১৯৭১ সালে বাঙালির মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হয়ে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত থেকে তার বাংলা অনুবাদ করেন। 

জাপানে বঙ্গবিদ্যা সম্মেলনে লেখক ও ড. আনিসুজ্জামান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট-পরবর্তী জাতীয় জীবনের ভয়াল অন্ধকার সময়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা ও প্রগতিন্থার গতশক্তি সমুন্নত রাখার যুদ্ধে সক্রিয় থাকেন। ১৯৯০-এর দশকে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত গণআদালত প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। ভাষা ও সাহিত্য গবেষণার পাশাপাশি তিনি শিক্ষক হিসেবে ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেছেন চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। গবেষণা ও ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন একাধিক দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে। 

২০১২ সাল থেকে আমৃত্যু ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি। আনিসুজ্জামানের প্রতিটি রচনাই বাঙালি, বাঙালিত্ব, বাঙালির আত্মপরিচয় ও আত্ম-আবিষ্কারের চিরায়ত প্রেরণা। তার রচিত-সম্পাদিত গ্রন্থগুলো থেকে সেই অনিঃশেষ প্রেরণাই বর্তমান ও ভবিষ্যতের বাঙালিকে পথ দেখাবে। মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪), মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র (১৯৬৯) মুনীর চৌধুরী (১৯৭৫), স্বরূপের সন্ধানে (১৯৭৬), Social Aspects of Endogenous Intellectual Creativity (1979), Factory Correspondence and other Bengali Documents in the India Official Library and Records (1981), আঠারো শতকের বাংলা চিঠি (১৯৮৩), মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৮৩), পুরোনো বাংলা গদ্য (১৯৮৪), মোতাহার হোসেন চৌধুরী (১৯৮৮),Cultural Pluralism (1993), Identity, Religion and Recent History (1995), আমার একাত্তর (১৯৯৭), মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর (১৯৯৮), আমার চোখে (১৯৯৯),  বাঙালি নারী: সাহিত্যে ও সমাজে (২০০০), পূর্বগামী (২০০১), কাল নিরবধি (২০০৩), বাঙালি সংস্কৃতি ও অন্যান্য (২০১২), ইহজাগতিকতা ও অন্যান্য  (২০১২), বিপুলা পৃথিবী (২০১৫) প্রভৃতি গ্রন্থ অধ্যাপক, লেখক, গবেষক ও চিন্তক আনিসুজ্জামানের মনন ও বৈদগ্ধ্যের অসামান্য দৃষ্টান্ত। এছাড়াও রয়েছে অনেকগুলো সম্পাদিত গ্রন্থ। একক ও যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো : রবীন্দ্রনাথ  (১৯৬৮), বিদ্যাসাগর-রচনা সংগ্রহ ( ১৯৬৮), Culture and Thought ( ১৯৮৩), মুনীর চৌধুরী রচনাবলী  ১-৪ খণ্ড (১৯৮২-১৯৮৬), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড ( ১৯৮৭), অজিত গুহ স্মারকগ্রন্থ (১৯৯০), স্মৃতিপটে সিরাজুদ্দীন হোসেন (১৯৯২), শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারকগ্রন্থ (১৯৯৩), SAARC : A People's Perspective (১৯৯৩),Creativity, Reality and Identity (১৯৯৩),  শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আত্মকথা (১৯৯৫), মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচনাবলী (১ ও ৩ খণ্ড, ১৯৯৪-১৯৯৫), নারীর কথা  (১৯৯৪), Bangladesh: Six Decades 1947-2007  ১৯৪৭-২০০৭ (২০১০), মুক্তির সংগ্রাম (২০১২), সার্ধশতবর্ষে রবীন্দ্রনাথ: বাংলাদেশের শ্রদ্ধাঞ্জলি  (কলকাতা, ২০১২), জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক স্মারকগ্রন্থ (২০১২) প্রভৃতি। 

এছাড়া অনুবাদ ও শিশুসাহিত্যমূলক রচনাও রয়েছে তার। আনিসুজ্জামানের বিচিত্রমুখী সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য, বাঙালি সংস্কৃতি এবং বাঙালির যে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দর্শন তা নিরন্তর আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবে। সেই সঙ্গে রয়েছে বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি, জগত, জীবন ও সংস্কৃতিভাবনার পরিচয়। জীবনচেতনা, আদর্শ ও দার্শনিক দিকনির্দেশনার যে সাক্ষ্য তার রচনাবলীতে বিদ্যমান, তা কেবল বাঙালিকে নয়, আগামীর বিশ্বমানবকেও পথ দেখাবে। 

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে একুশে পদক, ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পদক পান তিনি। পেয়েছেন, ভারতের পদ্মভূষণ পদক, পশ্চিমবঙ্গের আনন্দ পুরস্কার ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মধ্য দিয়ে, বাঙালিকে আগামীদিনের যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন; তা বাঙালি ও সর্বজনীন মানবভাবনার ক্ষেত্রে চিরকালের অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে। 

লেখক: উপাচার্য, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/এএএম
 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন