করোনার কারণে ঘূর্ণিঝড়ের বিশেষ প্রস্তুতি প্রয়োজন

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ২১:৩৮

এমন একটি সময়ে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হানিবার আশঙ্কা তৈরি হইয়াছে, যখন আমরা করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সর্বশক্তি নিয়োগ করিয়াছি। বলা যায়, আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পুরা সক্ষমতাই এখন লড়িতেছে করোনার বিরুদ্ধে। এইদিকে প্রায় বত্সরই এপ্রিল-মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সাধারণত একাধিক লঘুচাপ তৈরি হয়। সেই লঘুচাপ কখনো-সখনো পরিণত হয় ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে। জানা গিয়াছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ গত কয়েক দিনে সামান্য অগ্রসর হইলেও আরো শক্তিশালী হইয়া উঠিয়াছে। গতকাল রবিবার বিকালে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজার উপকূলে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাইয়া যাইতে বলা হইয়াছে। আবহাওয়াবিদরা বলিতেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর থাকা ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এখন ভয়ংকর চেহারা লইতে যাইতেছে। সোমবারের মধ্যেই আম্ফান আরো শক্তি সঞ্চয় করিয়া অতি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা লইতেছে। অতঃপর উহা ঘুরিতে ঘুরিতে আগাইয়া আসিতেছে স্থলভাগের দিকে। রবিবার ঐ ঝড়ের ঘূর্ণনের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটারের মধ্যে ছিল। আজ সোমবার হইতে তাহা বাড়িতে শুরু করিবে। আগামীকাল মঙ্গলবার ঘূর্ণনের গতিবেগ হইতে পারে ১৭০ হইতে ১৮০ কিলোমিটার। বুধবার আম্ফান স্থলভাগে প্রবেশ করিলে তাহার গতিবেগ হইতে পারে ১৬০ হইতে ১৭০ কিলোমিটার।

এমনিতেই বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ সামুদ্রিক ঝড় মোকাবিলায় বিশেষ সক্ষমতা অর্জন করিয়াছে। উপকূল জুড়িয়া পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করা হইয়াছে এবং মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করিতে সক্ষম হইয়াছে আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। পূর্বের অভিজ্ঞতা বলে, এই ধরনের ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট হয়। ১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোনে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ মারা গিয়াছিল। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায়। প্রায় একই ধরনের আরেকটি ঘূর্ণিঝড় ছিল ২০০৭ সালের সিডর। ঘূর্ণিঝড়টি অত্যন্ত ভয়ংকর হইলেও মানুষের মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম ছিল। ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলাও ছিল ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়। তবে উহার আঘাতে মৃত্যু ঘটে ১৯০ জন মানুষের। ২০১৩ সালে মহাসেনে মারা গিয়াছিল আরো কম, মাত্র ১৮ জন। এই পরিসংখ্যানই বলিয়া দেয় যে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করিয়াছি। কিন্তু এইবারের বিষয়টি ভিন্ন। করোনার কারণে এই সময়ে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় লইতে হইলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাটাও জরুরি। ইহার পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানিয়া চলাটা একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ হইয়া দাঁড়াইতে পারে। আবার মানুষ এবং গবাদিপশুর মৃত্যুহার কমাইতে হইলে সাইক্লোন শেল্টারের কোনো বিকল্প নাই। এই কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত শেন্টার প্রয়োজন, যাহা একটা চ্যালেঞ্জ হইবে বলিয়া মনে করা হইতেছে। কারণ, যদি শেল্টারে আশ্রয় লইবার কারণে করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঘটে, তাহা হইলে ঐ এলাকায় সংক্রমণের সংখ্যাটি অনেকখানি বৃদ্ধি পাইতে পারে। তাহাছাড়া, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সময় মানুষের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছাইয়া দেওয়া, তাহাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাটাও নূতন চ্যালেঞ্জ আনিতে পারে। এই সকল বিষয় মাথায় রাখিয়া আশা করা যায়, সাফল্যের সঙ্গেই সরকার সামলাইতে পারিবে আসন্ন এই দুর্যোগ।