তাইজুলের ঘূর্ণিতে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৮

মিরপুর টেস্টের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব এখন বাংলাদেশের হাতে। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে জয়ের চিত্রনাট্যের অর্ধেকই লিখে ফেলেছে বাংলাদেশ। জয়ের মধুরেণু আবর্তন করছে টাইগার শিবির ঘিরে। সিলেটে হতশ্রী পারফরম্যান্সের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হারের লজ্জা এড়ানো তথা মান বাঁচানোর জন্য জয়টা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে ২১৮ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। গতকাল ব্রেন্ডন টেইলরের সেঞ্চুরির পরও জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে ৩০৪ রানে। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার প্রতিপক্ষকে ফলো অন করানোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।

যদিও টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বস্ত সূত্র গতকাল নিশ্চিত করেছে, জিম্বাবুয়েকে ফলো অন করাবে না বাংলাদেশ। আজ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামবে টাইগাররা। দেড় সেশন বা দুই সেশনে আরও ২০০ রান যোগ করে জিম্বাবুয়েকে ৪০০’র বেশি রানের টার্গেট দিতে চায় বাংলাদেশ। তারপরই জয়ের মিশনে শেষ ভাগের কাজে নামবে বাংলাদেশ। ততক্ষণে গতকাল গোটা দিন বোলিং করা বোলাররাও কিছুটা বিশ্রাম পাবেন এবং উইকেট স্পিনারদের ফণা তুলতে উপযোগী হয়ে উঠবে।

টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে কখনোই প্রতিপক্ষকে ফলো অন করায়নি বাংলাদেশ। তবে এই প্রথম ২০০’র বেশি রানের লিড পেল। এর আগে সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের লিড ছিল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধেই। সেটা ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে এবং ওই ম্যাচে ২২৬ রানে জয় এসেছিল। আর সেটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

সোমবার দ্বিতীয় দিনের শেষ দিকে এক উইকেটে ২৫ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। গতকাল মঙ্গলবার আরো আটটি উইকেট হারিয়ে সফরকারী যোগ করতে পেরেছে ২৭৯ রান। হ্যামস্ট্রিংয়ে পড়া পেসার টেন্ডাই চাতারা ব্যাট করতে পারবেন না বলে নয় উইকেটেই শেষ হয়েছে তাদের প্রথম ইনিংস। 

তবে বল হাতে গতকাল জিম্বাবুয়েকে আরো কম রানে অলআউট করতে পারতো। সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পাঁচ ক্যাচ মিস। ক্যাচ ফেলেছেন মুশফিক, তাইজুল, মুমিনুল, মিঠুনরা। তারপরও প্রতিপক্ষকে তিনশো রানে আটকে রাখা গেছে তাইজুলের বোলিংয়ে। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠবার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ১০৫ রানে ৫ উইকেট পান তিনি। যার মধ্য দিয়ে এনামুল জুনিয়র ও সাকিবের পর দেশের তৃতীয় স্পিনার হিসেবে টানা তিন ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন তাইজুল।

গতকাল সকালে নাইটওয়াচম্যান তিরিপানোকে (৮) ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার। দুবার জীবন পাওয়া ব্রায়ান চারি মিরাজের বলে মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দেন। তিনি ৫৩ রান করেন। তারপর তাইজুলের ঘূর্ণি জালে বন্দী হন শন উইলিয়ামস (১১) ও সিকান্দার রাজা (০)। ১৩১ রানে পাঁচ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের হয়ে প্রতিরোধ গড়েন টেইলর ও পিটার মুর। তারা ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৯ রানের জুটি গড়েন।

সেই জুটি ভেঙেছেন আরিফুল। পিটার মুর ৮৩ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন। ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি করেন টেইলর। দলীয় ২৯০ রানে মিরাজের বলে তাইজুলের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরার আগে তিনি ১০টি চারে ১১০ রান করেন। পরে মাভুতাকেও ফেরান মিরাজ। চাকাভাকে (১০) মুমিনুলের ক্যাচ বানিয়ে পঞ্চম শিকার পূর্ণ করার সঙ্গে জিম্বাবুয়ের ইনিংসটাও গুটিয়ে দেন তাইজুল। বাংলাদেশের মিরাজ তিনটি, আরিফুল একটি করে উইকেট নেন।