বিক্রীত ব্রেসলেট ফিরবে হাতে
স্পোর্টস রিপোর্টার
বৈষয়িক দৃষ্টিতে দেখতে গেলে সামান্য একটা ব্রেসলেট। কিন্তু এটা মাশরাফির ১৮ বছরের সঙ্গী বলেই ছাপিয়ে গেলো সব রেকর্ড। নিলামে ঝড় তোলার পর ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে মাশরাফির ব্রেসলেট। এই বিপুল মূল্যে ব্রেসলেটটি কেনার পর সেটি আবার মাশরাফিকেই উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রেতা বিএলএফসির মমিন ইউ ইসলাম। ফলে মাশরাফির এই সঙ্গী ব্রেসলেট তার হাতেই উঠছে আবার। মাশরাফি জানিয়েছেন, এই পুরো টাকা দুর্গতদের জন্য ব্যয় করা হবে। নড়াইলের বাইরেও এই সাহায্য পৌঁছাবে।
করোনায় দুর্গতের সহায়তার জন্য এরকম অনেক নিলামের আয়োজন করছে ‘অকশন ফর অ্যাকশন’ নামে একটি ফেসবুকভিত্তিক সংগঠন। তারাই মাশরাফির ব্রেসলেট নিলাম আয়োজন করেছিল। সেখানে সর্বোচ্চ দর হেঁকে এটা কিনে নেন মমিন ইউ ইসলাম। মাশরাফির ‘বিশালত্বের’ কাছে বড়ো অঙ্কের এই অর্থকেও খুব বড়ো করে দেখছেন না বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান ও আইপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিন ইউ ইসলাম। নিলাম আয়োজনের ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, এটি দেশের প্রতি মাশরাফির অবদানের সামান্য প্রতিদান, ‘আপনি এই দেশকে যে সম্মান এনে দিয়েছেন, সেই সম্মানের প্রতিদান আসলে কোনোভাবেই হয় না। কিন্তু এটুকু করে আমরা চেষ্টা করেছি, আপনাকে কিছুটা হলেও সম্মান জানাতে। নিলামের খবর জানতে পেরেই আমি এই সংগঠনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিইওদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই একবাক্যে বলেছেন, যদি ভালো কাজে এই অর্থ ব্যয় হয় এবং আর্থিক খাত থেকে যদি বাংলাদেশের অধিনায়ককে সম্মান জানানো যায়, এর চেয়ে ভালো কিছু হয় না। মাশরাফির এই স্মারকটি আসলে অমূল্য, কোনো মূল্য হয় না। তার পরও আমরা খুশি যে এই টাকায় ব্রেসলেটটি নিতে পেরেছি।’
মমিন ইউ ইসলাম যখন এই কথা বলছেন, মাশরাফি তখন হাত থেকে ব্রেসলেট খুলে তুলে ধরে হাসিমুখে বলছিলেন, ‘এই যে, খুলে ফেলেছি। এটা আপনাদের, এখন আমার হাত খালি।’
মমিন ইউ ইসলাম তখন উপহার দেন আরেকটি বড়ো চমক, এই ব্রেসলেট ১৮ বছর ধরে আপনার সঙ্গে আছে, এটি আপনার হাতেই মানায়। আমরা এই ব্রেসলেট আপনাকেই উপহার দিতে চাই।’ নিলামের পর মাশরাফি জানালেন, এত মূল্য পাওয়া তার নিজেরও ধারণার বাইরে ছিল, ‘অসম্ভব ভালো লাগছে, অসম্ভব ভালো লাগছে। এই জিনিসটিই আমার জন্য অনেক ইমোশনাল। আমার আশাও ছিল না এত বেশি হবে। যে সম্মান আমাকে দেখানো হয়েছে, এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
আগেই মাশরাফি ঘোষণা করেছিলেন, নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে তার ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগে সহায়তা করা হবে অসহায় মানুষদের। কোভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকেই নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি তার এলাকায় ব্যাপক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি সহায়তা করেছেন ক্রিকেটাঙ্গনের অনেককেও। ব্রেসলেটের নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ কীভাবে কাজে লাগাবেন, সেটির একটি ধারণাও তিনি দিলেন, ‘এখনো আসলে বিস্তারিত পরিকল্পনার সুযোগ পাইনি। তবে ইচ্ছা আছে, নড়াইলের বাইরেও সহায়তা করার চেষ্টা করব। দেশজুড়ে অনেক সংস্থা খুব ভালো কাজ করে চলেছে। তাদেরকে যদি কিছু হেল্প করা যায়। আর নড়াইলের জন্যই রাখতে হবে। নড়াইল অনেক দরিদ্র এলাকা, অনেক কিছু করার বাকি আছে। ওখানেই বেশির ভাগটা করতে হবে।’
