জিটুবি, অর্থাত্ গভর্নমেন্ট টু বেনিফিশিয়ারি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হইতে ৫০ লক্ষ পরিবারকে অর্থসাহায্য দিতে তালিকা করা হইয়াছিল। কিন্তু অনলাইনে যাচাই-বাছাই করিতে গিয়া মাত্র সাড়ে ৭ লক্ষ হতদরিদ্রের নাম তালিকায় টিকিয়াছে। বাকি সকল ত্রুটি ও অনিয়মে ভরা। সরকারের অর্থসাহায্য প্রদানের পদ্ধতিটি ছিল প্রশংসনীয়। কথা ছিল, সফটওয়ারের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন নাম্বার স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই-বাছাই করিয়া এই সহায়তা দেওয়া হইবে। কিন্তু দেখা গিয়াছে একদিকে তথ্যগত ত্রুটি যেমন রহিয়াছে, অন্যদিকে একই মোবাইল নম্বর একাধিকবার ব্যবহূত হইয়াছে। এবং সংখ্যায় তাহা লক্ষ লক্ষ। সেই ক্ষেত্রে কিছু মানুষ অসত্ উপায় যেমন অবলম্বন করিয়াছে, আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন বাস্তবতাও দেখা গিয়াছে। সেই বাস্তবতা হইল, হতদরিদ্র যাহাদের মোবাইল ফোন নম্বর নাই, তাহারা অন্যের মোবাইলের সহযোগিতা লইয়াছেন। অনলাইন-সম্পর্কিত অজ্ঞানতার কারণে তাহারা বুঝিতে পারেন নাই যে ইহা দুই জনের জন্যই সমস্যা হইয়া দাঁড়াইবে। এই ক্ষেত্রে সরকার একটি উদ্যোগ লইয়াছে যাহা সত্যিই যথাযথ। যাহাদের কোনো মোবাইল নাম্বার নাই, তাহারা ১০ টাকার বিনিময়ে অ্যাকাউন্ট করিবেন এবং সেই অ্যাকাউন্টে তাহাদের সাহায্যের অর্থ চলিয়া যাইবে। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসজনিত দুর্বিপাকে থাকা মানুষদের রক্ষায় ত্রাণের পাশাপাশি ৫০ লক্ষ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করিয়া সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এই অনলাইন সাহায্যের মধ্য দিয়া কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার হইবে যাহা পরবর্তী সময় দেশকে নানাভাবে উপকৃত করিবে। আমরা জানি, দেশে মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত হইবার নিয়ম থাকিলেও অনেকে তাহা করেন না। দেশে লক্ষ লক্ষ মোবাইল ফোন রহিয়াছে যাহার রেজিস্ট্রেশন একজনের নামে, কিন্তু ব্যবহার করিতেছেন আরেকজন। ইহা দুই কারণে হইয়া থাকে: একটি হইল অপরাধ ঘটাইবার উদ্দেশে একশ্রেণির মানুষ করিয়া থাকে, আরেকটি অনলাইন বিষয়ে অজ্ঞানতাবশত হইয়া থাকে। এই অজ্ঞানতাবশত নিবন্ধনজনিত ত্রুটি ৫০ লক্ষ মানুষের নিবন্ধনের মাধ্যমে অর্থসহায়তা দিতে গিয়া অনেকটাই পরিষ্কার হইয়া যাইবে। দ্বিতীয়ত, অনলাইন তথ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা খানিকটা হইলেও ফিরিবে। কোথাও সামান্য তথ্যগত ভুলত্রুটি হইলে নিজের পরিচয়টিও যে ত্রুটিপূর্ণ থাকিয়া যাইবে তাহা হতদরিদ্র সাধারণ মানুষও বুঝিতে পারিবে। তৃতীয়ত, কাহারা এই সাহায্য গ্রহণ করিতেছেন তাহারও একটি অনপনেয় রেকর্ড থাকিয়া যাইবে। ফলে অনলাইন বিষয়ে জ্ঞাত কেহ কেহ ইচ্ছা থাকিলেও হয়তো এই সাহায্যের অর্থের অপব্যবহারের দিকে হাত বাড়াইবে না।
এই সকল কারণেই আমরা চাই, দেশের প্রতিটি মানুষের ডিজিটাল পরিচয় তৈরি হোউক। প্রতিটি মানুষের ডাটা যদি অনলাইনে ঢুকিয়া যায় তাহা হইলে নিঃসন্দেহে দেশে অপরাধ কমিবে, দুর্নীতি কমিবে। সেই সঙ্গে সরকারের কাজও হইবে সাবলীল ও গতিসম্পন্ন। পৃথিবীর বহু রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের বৃত্তান্ত অনলাইনে ঢুকিয়া গিয়াছে। বাংলাদেশ সেইক্ষেত্রে পিছাইয়া থাকিবে কেন? আমরা জানি, সরকারের শীর্ষ পর্যায় হইতে দেশকে ডিজিটাল করিবার অঙ্গীকার এবং প্রবল আগ্রহ রহিয়াছে। করোনা ভাইরাস পরবর্তী স্বাভাবিক সময় ফিরিয়া আসিলেই সরকারের ডিজিটালাইজেশন পূর্ণ গতিতে আগাইবে বলিয়া আশা রাখি।
