কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভিজিডি কার্ডের তালিকায় তিন ইউপি সদস্যের স্ত্রীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩ হাজার ৫০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি চাল আত্মসাতের দায়ে এক নারী ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ময়মনসিংহের গৌরিপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল চুরি ঠেকাতে সুবিধাভোগীদের কার্ডের রংই পালটে ফেলা হয়েছে।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪ নম্বর আড়িয়া ইউনিয়নে দুস্থ পরিবারদের সহায়তায় ভিজিডি কার্ডের তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, দুস্থ-অসচ্ছল পরিবারের পরিবর্তে সচ্ছল পরিবার, এমনকি কয়েকজন ইউপি সদস্যের স্ত্রীদের নাম এক বা একাধিকবার ঐ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জন্য ১৪ নম্বর আড়িয়া ইউনিয়নে ৯২টি দুস্থ পরিবারের জন্য ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। উক্ত বরাদ্দকৃত প্রত্যেক কার্ডধারী প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল/গম পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে ভিজিডি কার্ডের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দুস্থ পরিবার, পরিবারের প্রধান নারী, ভূমিহীন, বসতবাড়ির অবস্থা খারাপ, দিনমজুরি করে কোনোরকমে সংসার চালায় এমন পরিবারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি কমিটি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকা তৈরি করে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দেবার পর তালিকা চূড়ান্ত হলে ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য প্রদান করা হয়। এরই মধ্যে অত্র ইউনিয়নে চূড়ান্ত তালিকার ভিজিডি কার্ডধারীদের মধ্যে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অত্র ইউনিয়নের নতুন ৯২ জন ভিজিডি কার্ডধারীর মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রাশিদুল ইসলাম তার নিজ ওয়ার্ডে এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তার স্ত্রী পারভীন ইয়াছমিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করাসহ ভাতিজি, ভাইয়ের স্ত্রী, আপন মামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। একই ওয়ার্ডের ৩ নম্বর ক্রমিকের হাজেরা খাতুনের নাম তালিকাভুক্ত থাকলেও আজ পর্যন্ত তিনি চাল পাননি বলে অভিযোগ করেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোশরুল ইসলাম ভিজিডি কার্ডের তালিকায় তার স্ত্রী ছাবিনা খাতুনের নাম ২২ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল আলীমও ভিজিডি কার্ডের তালিকায় তার স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নাম ক্রমিক নম্বর ৭০ এ অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাঈদ আনসারী বিপ্লবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের স্ত্রীদের নামে কার্ড হওয়া ঠিক না। এক জন ওয়ার্ড সদস্যের স্ত্রীর নাম একাধিকবার থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা কম্পিউটারে মিসটেক হয়েছে যা আমার জানা ছিল না।’ এ ব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইশরাত্ জাহান বলেন, এ ধরনের অনিয়ম হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
