‘ভার্চুয়াল’ এনইসিতে অনুমোদন পাচ্ছে এডিপি

আপডেট : ১৯ মে ২০২০, ০০:২৮

প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠক। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও সচিবরা এনইসি সম্মেলন কেন্দ্র থেকে এই বৈঠকে যোগ দেবেন। আসছে ২০২০-২০২১ সালের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদনের জন্য এই সভা আহ্বান করা হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৪ কোটি টাকার এডিপির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে এডিপি চূড়ান্ত করতে এই এনইসি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে ছুটির কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম প্রায় বন্ধ। শুধু জরুরি বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে। করোনার প্রভাব পড়েছে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও। গুরুত্বপূর্ণ বা অগ্রাধিকার ছাড়া অন্য প্রকল্পগুলো প্রায় স্থবির হয়ে আছে। আগামী অর্থবছরে তাই চলমান প্রকল্প শেষ করার প্রতি গুরুত্ব থাকবে বলে জানা যায়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এই বৈঠকে যোগ দেবেন। অন্যান্য বছর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সব মন্ত্রী ও সচিবদের উপস্থিতিতে এই বৈঠক হলেও এবার মাত্র ১০ জন মন্ত্রী ও সচিব উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। তবে গত মার্চ মাসে তা সংশোধন করে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। আগামী অর্থবছরের জন্য যে এডিপির আকার গ্রহণ করা হচ্ছে, তা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। তবে এনইসি বৈঠকে বরাদ্দ কম-বেশি হতে পারে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৭টি খাতে এডিপির বরাদ্দের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ বরাদ্দ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৫২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন খাত। এ খাতের মধ্যে রয়েছে সড়ক পরিবহন, সেতু বিভাগ এবং রেলপথ, নৌ, বেসামরিক বিমান পরিবহন। চলমান পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগসহ সব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে আগামী অর্থবছরও পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এরপর বিদ্যুত্ খাতে দেওয়া হয়েছে ২৪ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রয়েছে শিক্ষা খাতে ২৩ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। এর বাইরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। কৃষি খাতে রাখা হচ্ছে ৮ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। এডিপিতে মোট প্রকল্প সংখ্যা রাখা হয়েছে ১ হাজার ৭৭৭টি। এসব প্রকল্পের মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প রয়েছে ৮১টি। বাকি প্রকল্পগুলো সরকারের নিজস্ব (জিওবি) ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহযোগিতায় বাস্তবায়ন হবে। এর বাইরে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপভুক্ত (পিপিপি) প্রকল্প থাকবে ৬১টি।