কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনাসহ আগামী পাঁচ বছরের জন্য কালো টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের দাবি জানিয়েছে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্যপরিষদ। নতুন অর্থবছরের (২০২০-২১) জাতীয় বাজেটে এ সুযোগ দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী বরাবর ১৬ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি এ কে এম মিজান-উর রশিদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুর রাজ্জাক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম শাহাদাত উল্লাহ গত সোমবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে এ প্রস্তাবনাগুলো পাঠিয়েছেন।
প্রস্তাবনায় বলে হয়েছে, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে যে মহাধস শুরু হয়েছিল তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বহু বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা করেছেন, অনেকেই হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, যারা বেঁচে আছেন তারাও অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিনিয়োগকারীদের ১৬টি দাবির মধ্যে রয়েছে—মহামারি করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ন্যূনতম আগামী পাঁচ বছরের জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে নিঃস্বার্থভাবে কালো টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া। বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি পূরণের জন্য মার্জিন হিসাবের সুদ চলতি বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মওকুফ করতে হবে। ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত মার্জিন হিসাবের সুদ সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা। ন্যূনতম পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সব রকম লভ্যাংশ আয়ের ওপর সব ধরনের ভ্যাট, ট্যাক্স মওকুফ করা। এছাড়া রাজধানীসহ দেশব্যাপী ব্রোকারেজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শাখা খোলার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় বাজেটে শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়াতে সরকারিভাবে শেয়ার ক্রয়ের জন্য ন্যূনতম ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
এর বাইরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের শর্তে ব্যক্তিগত আয়কর মুক্ত সীমা ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা করা, এসএমই শ্রেণিভুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়কর মুক্ত সীমা ৪০ লাখ টাকা করা, সরকার ঘোষিত প্রত্যেক ব্যাংকে শেয়ারবাজারে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ সীমা বাড়িয়ে ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
