মেধাবী বলে একে অপরকে ভালোবেসে ফেলে। নোভা ও নাসিরের বিয়েও হয়। ভালো জব পায় তারা। কিন্তু কর্মক্ষেত্র তাদের আলাদা শহরের। ওদের হঠাত্ দূরত্ব বাড়তে থাকে। নোভা টের পায় নাসির পরকীয়ায় জড়িয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত তাদের ঝগড়া-বিবাদ হতে থাকে। একে অপরকে সন্দেহ করে। বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনের সিদ্ধান্তে নাসিরকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হয় নোভা।
ডিপ্রেশনের দিনগুলোতে ফেসবুকে পরিচিত হয় রাশেদ নামে এক ডিভোর্স ছেলের সঙ্গে। তারা দুজন দুজনের দুঃখ-কষ্ট শেয়ার করে। রাশেদ কৌশলে নোভাকে সঙ্গ দিয়ে পটিয়ে ফেলে। রাশেদের প্যাঁচে পড়ে সবার অজান্তে বিয়ে করতে বাধ্য হয় নোভা। প্রথমবারের মতো দ্বিতীয়বারও ভুল করল নোভা। রাশেদের নানারকম বদঅভ্যাস আছে, সেটা নোভা জানত না। বদঅভ্যাসগুলোর কারণে তার প্রথম স্ত্রী ডিভোর্স দিতে বাধ্য হয়েছে। রাশেদ নেশা করে। মাতাল অবস্থায় নোভাকে মারধর করে। রাতে অমানবিক নির্যাতন করে। সবার অজান্তে দ্বিতীয় বিয়ে করা রাশেদের সব নির্যাতন সহ্য করতে থাকে। রাশেদও এই সুযোগে শর্ত দিয়ে তার অনেক কিছু লিখিয়ে নেয়। দিনের পর দিন রক্তে-মাংসে গড়া শরীরে আর কত নির্যাতন সহ্য করবে, সহ্য করতে পারে না নোভা। নোভা রাগে ভাবে, ‘পৃথিবীতে এসেছিলাম একা, ছেড়ে যেতে হবে একা, মাঝখানে কিছু মাদারচোদের সাথে দেখা।’ নোভা সিদ্ধান্ত নেয় রাশেদকে ডিভোর্স দিয়ে সারা জীবন একাই থাকবে।
কাফি ভদ্র ও বিনয়ী ছেলে। ডিভোর্সের কথা শোনার পরও নোভাকে প্রচণ্ড ভালোবাসত কাফি। নোভা একাকী একজন দুঃখী মানুষ। দুঃখী মানুষকে সুখে রাখার জন্য সে ঘরবাঁধার স্বপ্ন দেখত। সেটা নোভাও ভালো করে জানত। কিন্তু কাফিকে অনেক অবমূল্যায়ন করেছে নোভা। রাশেদের নির্যাতনে কাফির সুপরামর্শ ও উপকারের কথাগুলো খুব মনে পড়ে নোভার। কাফিকে বিয়ে না করে ভুল করেছে, সেটা বুঝতে পারে—অনুতপ্ত হয় সে।
রাশেদ যখন বুঝতে পারে নোভা তাকে ডিভোর্স দেবে। তখন রাশেদ একটা পরিকল্পনা করে। দুদিন পর নিজ ফ্ল্যাটে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় নোভার লাশ পাওয়া যায়...।
