করোনা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হইতে রক্ষা ও চিকিত্সায় কোনো কার্যকরী ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় চিকিত্সা না থাকায় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বিশ্বব্যাপী মানুষকে বারংবার হাত ধৌত করিবার পরামর্শ দিয়াছে। বিভিন্ন দেশের সরকার এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলিও হাত ধোয়ার উপর জোর দিয়াছে। ইহা লইয়া হয়তো বিশ্বের কিছু দেশে সংকট অনুভূত হইবে না। কিন্তু বহু দেশ হাত ধোয়ার কাজে পানি ব্যবহার করিতে গিয়া আরো গভীরভাবে বিশুদ্ধ পানির সংকটের মুখে পড়িতেছে বলিয়া জানাইয়াছে ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন। তাহাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হইয়াছে, বিশ্বের ৮৪ কোটি মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে রহিয়াছে এবং শুধু আরব অঞ্চলেই হাত ধোয়ার পানির সংকটের কারণে ৭ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকিতে রহিয়াছে। ফলে বহু দেশ একদিকে ভাইরাস, অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানির অভাবের উভয় সংকটে পড়িতেছে।
প্রাণের জন্য পানির চাইতে বড়ো প্রয়োজন আর কী হইতে পারে? ইহাও ভাবিয়া স্তম্ভিত হইতে হয় যে, যেই পৃথিবীতে তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল, সেই স্থলের মানুষসহ প্রাণিকুলের জলের অভাবে মৃত্যুর সম্মুখীন হইতে হয়! এই সুপেয় তথা বিশুদ্ধ পানির অভাব পৃথিবীতে নূতন নহে। বিশেষ করিয়া আফ্রিকা, এশিয়ার কিছু অঞ্চল হইতে শুরু করিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ফ্লিন্ট পর্যন্ত সুপেয় পানির অপ্রতুলতা রহিয়াছে। শুনিতে বিস্ময়কর মনে হইলেও সত্য যে বিশ্বের ১৫০টি দেশে বিশুদ্ধ পানির অভাব রহিয়াছে। এবং ইহাদের মধ্যে কাতার সৌদি আরব, আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ডসের মতো অর্থশক্তিসম্পন্ন দেশও রহিয়াছে। এই সকল দেশের অর্থ আছে। তাহারা অর্থ দ্বারা পানির সমস্যা মিটাইতে পারে। কিন্তু ইথিওপিয়া, আফগানিস্তান, রুয়ান্ডা, মঙ্গোলিয়ার মতো দেশগুলির সুপেয় পানির অভাব যে তাহাদের রোগ-বালাই ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াইতেছে তাহাতে কোনোই সন্দেহ নাই।
বিশ্বনেতৃবৃন্দ এই বিশুদ্ধ পানি সমস্যা মিটাইবার চেষ্টা করিতেছেন। তাহাদের প্রচেষ্টায় ১৯৯০ হইতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উন্নয়নশীল বিশ্বের ২০০ কোটি মানুষের বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হইয়াছে। কিন্তু এখনো সংকট যে শুধু রহিয়াছে তাহাই নহে, আরো বাড়িতেছে। যদিও জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সকলের জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করিবার লক্ষ রহিয়াছে, কিন্তু তাহা কতটা ফলপ্রদ হইবে এখনই বলা দুষ্কর। আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের এক হিসাবে বলা হইয়াছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রতি চার জনের এক জন এমন দেশে বসবাস করিবেন, যেই দেশ দীর্ঘমেয়াদি অথবা বারংবার বিশুদ্ধ পানর সংকটে পড়িবে।
সুতরাং যেই সকল দেশে এখন একই সঙ্গে পানির সংকট ও করোনা ভাইরাসের সমস্যা মোকাবিলা করিতে হইতেছে তাহাদের পানি ব্যবহারে সচেতনতার কোনো বিকল্প নাই। ইহা বাংলাদেশের জন্যও প্রযোজ্য। সেই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের চাপ যত কমানো যাইবে, ততই দেশের জন্য মঙ্গল, ইহাও স্মরণে রাখিতে হইবে। ০০০০০০০০০০০০০০০০০০
