ক্ষুদ্রঋণ বনাম জাকাত

আপডেট : ১৯ মে ২০২০, ২১:৩২

ক্ষুদ্র ঋণগ্রহণকারী একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অন্য আরেকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই এনজিওর ঋণ পরিশোধ করে। ফলে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহণকারী ঋণের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। ক্ষুদ্রঋণের এসব বাধা দূর হতে পারে জাকাতের কর্মমুখী বণ্টনের মাধ্যমে। কারণ এতে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোনো সুদ, সঞ্চয় ও কিস্তি পরিশোধের ব্যাপার নেই। কিন্তু জাকাত সংগঠিত নয়। জাকাতদাতা নিজেই জাকাত প্রদান করে। প্রতি বছর দেশে জাকাতের কোটি কোটি টাকা প্রচলিত প্রথা শাড়ি, লুঙ্গি ও নগদ অর্থের আকারে ব্যয় হয়ে যায়। তাছাড়া গ্রামের কিছু অচল, অসচ্ছল ও বয়স্ক ব্যক্তিই সেসব পেয়ে থাকেন। রমজানের সময় দোকানে দোকানে জাকাতের শাড়ি, লুঙ্গি পাওয়া যায় বলে লেখা থাকে; কিন্তু এর পরিবর্তে জাকাতের সেলাই মেশিন, ভ্যান ও রিকশা পাওয়া যায় লেখা থাকলে দেশের দারিদ্র্যবিমোচন হতে লাগত কয়েক বছর। একজন জাকাত প্রদানকারী ৭ ভরি স্বর্ণের মূল্য হিসেবে টাকা প্রদান করেন। এই অর্থ ইউনিয়নভিত্তিক সংগ্রহ করে সংগঠিত ও কর্মমুখী বণ্টন হলে দেশে প্রতি বছর ছেষট্টি লাখ লোকের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হতো। একটি ইউনিয়নে দুই কোটি টাকা জাকাত সংগৃহীত হলে তা দিয়ে ১৪৪৫ জন লোকের কর্মসংস্থান করা সম্ভব। বাংলাদেশে ইউনিয়নের সংখ্যা ৪৫৫৪। এভাবে ৪৫৫৪´১৪৪৫=৬৫,৮০,৫৩০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান হতে পারে। ক্ষুদ্রঋণের পরিমাণ ৪,০০০ টাকা। কিন্তু জাকাতের কর্মমুখী বণ্টনে একটি সেলাই মেশিনের দাম ৬,০০০ টাকা, ভ্যান ১৫,০০০ টাকা, রিকশা ২০,০০০ টাকা। জাকাতের কর্মমুখী বণ্টন নিঃসন্দেহে ক্ষুদ্রঋণের উত্তম বিকল্প। যদিও ব্যক্তি ও সংগঠন পর্যায়ে জাকাতের কর্মমুখী বণ্টন শুরু হয়েছে; কিন্তু ইউনিয়নভিত্তিক জাকাতকে সংগঠিত করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্যবিমোচন এখন সময়ের দাবি।

মো. কামরুজ্জামান

প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ,

টিঅ্যান্ডটি কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা