গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভে চট্টগ্রাম নগরীতে বিশৃঙ্খলা

আপডেট : ১৯ মে ২০২০, ২২:৫৮

চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গত প্রায় এক সপ্তাহ তাদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। এসব শ্রমিকদেরকে পুলিশ তাত্ক্ষণিকভাবে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আশ্বাস জানালেও বিক্ষোভ প্রায় প্রতিদিনই অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারও চট্টগ্রামের কালুরঘাটে প্যানমার্ক নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন ও বোনাসের দাবিতে কারখানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। তাদের হাতে ঐ কারখানার কয়েক জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাজেহাল হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

চান্দগাঁও থানার ডিউটি অফিসার জানায়, খবর পেয়ে তারা একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠালে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এছাড়া গতকাল বায়েজিদ বোস্তামী এলাকাতেও একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে। গত সোমবার নগরীর মনছুরাবাদের দুইটি কারখানার তিনটি ইউনিটে হাজার হাজার শ্রমিক বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করলে কয়েক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত সড়ক জুড়ে তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নগরীতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্বের বালাই না রেখে শ্রমিকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মিছিল ও বিক্ষোভ করায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রমজানের আগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের বেতন ভাতা ও বোনাস পরিশোধে মালিক পক্ষের নানা টালবাহানায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, শুধু করোনা পরিস্থিতিতে নয়, এসব মালিকরা অতীতে ভালো সময়েও রমজান, ঈদ ও কোরবানিকে সামনে রেখে সবসময় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে হয়রানি করে আসছে। এ ব্যাপারে সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এর মধ্যে ইপিজেড, নাসিরাবাদ, কালুরঘাট শিল্প এলাকা, কোরিয়ান ইপিজেড, স্টেশন রোড, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট এলাকা, অক্সিজেন, আগ্রাবাদসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক গার্মেন্টস কারখানার কোনো না কোনোটিতে প্রতিদিনই এরকম শ্রমিক বিক্ষোভ, অসন্তোষের ঘটনা ঘটছে বলে পুলিশের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।