আমাদের পুষ্প-নিসর্গ কত রঙেই না রঙিন! কোনোটি লাল, কোনোটি নীল, আবার কোনোটি সাদা, বেগুনি, গোলাপি। তেমনি অপরাজিতা। রূপসী অপরাজিতার লতানো গাছে সবুজ পাতার কোলে এক টুকরো প্রগাঢ় নীল কিংবা শ্বেত-শুভ্রের সম্ভাষণ। রঙের বাহার আর মিষ্টি শোভায় অপরাজিতা অনন্য। প্রজাপতির মতো রঙিন বর্ণের আর শিম ফুলের মতো দেখতে তাই একে বলা হয় Butterfly Pea। ‘শঙ্খপুষপী’ নামেও পরিচিত।
অপরাজিতা Fabaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি লতানো ঝোপময় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। লম্বায় ১৫ থেকে ২০ ফুট হয়ে থাকে। পাতা পাঁচটি বা সাতটি ডিম্বাকৃতির পত্রে বিভক্ত। সাধারণত নীল, সাদা ও বেগুনি—এই তিন ধরনের ফুল দেখতে পাওয়া যায়। ফুল একপাপড়ি বিশিষ্ট, প্রায় সারা বছরই ফোটে। ফুলটি বৃতি থাকে এক পাশে বিস্তৃত। দল অর্ধবৃত্তাকার। ফুল লম্বায় দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি, চওড়া পৌনে এক ইঞ্চি। গাঢ় নীল রঙের অপরাজিতা ফুলটি দেখলে মনে হয় নীলাম্বরী, তাই এর আরেক নাম নীলকণ্ঠ।
সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অপরাজিতা একটি পবিত্র উদ্ভিদ। শারদীয় দুর্গোত্সবে ষষ্ঠীতে বোধনের পর নবপত্রিকাকে সাদা অপরাজিতার লতা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের পর কুলপ্রথা অনুসারে পূজামণ্ডপে ভক্তদের বিজয় কামনায় অপরাজিতা পূজার প্রচলন আছে।
অপরাজিতার ফল হয় শিমের মতো, তিন-চার ইঞ্চি লম্বা। পরিপক্ব হলে শুকিয়ে যায়। প্রতিটি ফলে পাঁচ থেকে আটটি কালো রঙের বীজ থাকে। বীজ মাটিতে রোপণ করলে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চারা গজায়।
ভেষজগুণও রয়েছে অপরাজিতার। এর লতাপাতা, শিকড় বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি নিরাময় করে। ব্রণ, আমাশয়, মূত্ররোগের চিকিত্সায় এ ফুল ব্যবহার করা হয়। সাদা অপরাজিতার শেকড় সাপের বিষনাশক এবং প্রসবব্যথা নিবারণে কার্যকর বলে জানা যায়। নীল অপরাজিতার শেকড় বাতব্যথা উপশমে ব্যবহূত হয়। এছাড়া বয়ঃসন্ধিকালীন উন্মাদ রোগ, গলগণ্ড রোগ, ঘন ঘন প্রস্রাব, স্বরভঙ্গ, শুষ্ক কাশি, আধকপালে ব্যথা ইত্যাদি রোগে অপরাজিতার মূল, ফুল, পাপড়ি, লতাপাতা, মূলের ছাল ও বীজ ব্যবহার হয়ে থাকে।
