ইত্তেফাক রিপোর্ট
ঘূর্ণিঝড় আমফানে দেশের যেসব স্থানে বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেখানে দ্রুততর সময়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। এ লক্ষ্যে দেশের সবগুলো পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিতে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনা সংকটের কারণে হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুত্ সরবরাহ পুনর্বহালে অগ্রাধিকার দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার আরইবি থেকে দেশের সব জেলার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিগুলোতে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জরুরি সেবা বিবেচনায় সমিতির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, ঝড়ের সঙ্গে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুত্ সরবরাহের জন্য বিদ্যমান অবকাঠামোসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জারি করা নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—সমিতির জেনারেটরে প্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুত করে রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় পণ্যাগারসমূহ এবং সব পবিস স্টোর প্রয়োজনীয় জনবলসহ সার্বক্ষণিকভাবে খোলা রাখতে হবে। যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত মালামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। দুর্যোগকালীন সময়ে বিভ্রান্ত হয়ে তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্ব-উদ্যোগে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ করা যাবে না। তাত্ক্ষণিকভাবে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ করা হলে সমগ্র দেশ ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। এ ব্যাপারে এনএলডিসির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে।
দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে বিতরণ ব্যবস্থার দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করার জন্য ফিডারভিত্তিক গঠিত মনিটরিং কমিটি, ইলেকট্রিশিয়ান, পূর্বনির্ধারিত স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করতে হবে। বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্বহালের ক্ষেত্রে যতদ্রুত সম্ভব বিটিএস, হাসপাতাল, উপজেলা সদর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্রাধিকারভিত্তিক বিদ্যুত্ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে।
