শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানায় বোনাস হয়নি

আপডেট : ২০ মে ২০২০, ২৩:০১

ঈদের আগে বেতন-বোনাস ইস্যুতে অস্থির হয়ে উঠছে শিল্পাঞ্চল। শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গতকাল ২৬ রমজান পার হলেও শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ৮৯ শতাংশ কারখানাই ঈদের বোনাস পরিশোধ করতে পারেনি। এছাড়া এপ্রিলের বেতনও পরিশোধ হয়নি ৩ হাজার ২৫৮টি কারখানায়। এর ফলে ক্রমেই অসন্তোষ বাড়ছে কারখানায়। অন্যদিকে তিন শতাধিক কারখানায় মার্চের বেতনও পরিশোধ হয়নি এখনো। আবার অনেক কারখানায় সরকারঘোষিত অর্ধেক বোনাস নিয়ে আপত্তি জানিয়েও আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। এসব ইস্যুতে শিল্পাঞ্চলে গতকাল বেশকিছু কারখানায় শ্রম অসন্তোষের জেরে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। শিল্পাঞ্চলের তালিকার বাইরে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বেশকিছু গার্মেন্টসেও একইভাবে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো গার্মেন্টসে পুলিশের   লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গতকাল রাজধানীর মালিবাগ, শ্যামপুর, উত্তর খান দক্ষিণখান, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এপ্রিল মাসের শতভাগ মজুরি ও বোনাসের দাবিতে প্রায় অর্ধশত কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকনেতা সিরাজুল হক রনি জানান, শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে মালিকেরা একধরনের চাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে। ফলে করোনা ভাইরাসের এই সময়েও শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর পেছনে স্থানীয় রাজনীতি ও কারখানার মালিকদের অন্তঃকোন্দলও জড়িত বলে মনে করেন তিনি।

সূত্র জানিয়েছে, শ্রম অসন্তোষের এই সময়ে বেশকিছু ভালো মানের এবং কর্মপরিবেশসম্পন্ন কারখানাও শ্রমিকদের হামলার শিকার হয়েছে। কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, যেসব কারখানা হামলার শিকার হয়েছে, সেখানে বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়। এসব কারখানা আক্রান্ত হওয়ায় এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তাদের। বেতন-ভাতা ইস্যুতে কারখানায় হামলার নিন্দা জানিয়ে গতকাল পোশাক খাতের দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এক বিবৃতিতে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গত কয়েক দিন ধরে বেতন-ভাতার নামে যে আন্দোলন হচ্ছে, তাতে এ খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল কৌশলে এই অপতত্পরায় শ্রমিকদের ব্যবহার করছে। এসব অপতত্পরতাকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তারা।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল পর্যন্ত ডিবিএল, ওপেক্স, মেডলার, ইমপ্রেস, ভিশন, ডিজাইনটেক্স, সেনটেক্স, সিভিক অ্যাপারেল ফকির নিটওয়্যারের মতো কারখানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বেলিসিমা ও সিভিক অ্যাপারেলে কারখানা-মালিকদেরও অপদস্ত করা হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, ফকির নিটের মতো কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি কারখানার মালিক, প্রশাসন ও শ্রমিকদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল আশুলিয়া, গাজীপুর সাভারসহ শিল্পাঞ্চলের ৭ হাজার ৬০২টি কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৮২৮টি কারখানায়। অর্থাত্ বোনাস পরিশোধের বাকি রয়েছে প্রায় পৌনে ৭ হাজার কারখানা। অন্যদিকে এখনো এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি ৩ হাজার ২৫৮টি কারখানা। তবে বেতন-ভাতা পরিশোধে অপেক্ষাকৃত এগিয়ে রয়েছে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানাগুলো।