যথাযথ পবিত্রতা, মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা লাইলাতুল কদর পালন করেছেন। গতকাল ২৬ রমজান দিবাগত রাত ছিল লাইলাতুল কদর হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার রাত। হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যময় এ রজনিতে ইবাদত বন্দেগির জন্য ইফতার ও মাগরিব নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল ইবাদতে মশগুল হন। করোনার কারণে মসজিদের চেয়ে বাড়ি-ঘরে বসেই বেশি ইবাদত করেন মুসল্লিরা। গোটা রাত মুমিনরা কাটান ইবাদত-তাসবিহ-তাহলিল-তিলাওয়াতে। মুসলমানদের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমত এবং অনুগ্রহের রজনি হচ্ছে লাইলাতুল কদর।
রমজান মাসের এ রজনিতেই মহানবি হযরত মুহাম্মদের (সা.) প্রতি পবিত্র কোরআন নাযিল শুরু হয়েছিল। এ রাতের ইবাদত-বন্দেগিকে নাজাতের উছিলা এবং হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম বলে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। এরাতে হযরত জিবরাইলসহ (আ.) ফেরেস্তারা অবতীর্ণ হন তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারীরূপে ও হিদায়েতের সুস্পষ্ট নিদর্শন।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত :১৮৫)। ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মাহাত্ম্যপূর্ণ রজনিতে। আপনি কি জানেন মহিমাময় রাত্রি কি? মহিমান্বিত নিশি সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেয়। সে রাত্রিতে ফেরেশতাগণ রুহুল কুদস হজরত জিবরাইল (আ.) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে ঊষা উদয় পর্যন্ত।’ (সুরা-৯৭ কদর, আয়াত: ১-৫)। আরবিতে ‘লাইলাতুল কদরু’র ফারসি হলো শবেকদর। অর্থ সম্মানিত মর্যাদাপূর্ণ ও মহিমান্বিত, সম্ভাবনাময়, ভাগ্যনির্ধারণী রজনি। নবী করিম (সা.) এ রাতে নিজে ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং তাঁর সাহাবিদেরও বেশি বেশি ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন। রমজান মাসের ২১ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে বেজোড় সংখ্যার রাতেই পবিত্র লাইলাতুল কদর। তবে ২৭ রমজান অর্থাত্ ২৬ রমজান দিবাগত রাতকেই কদরের রাত হিসেবে ধরে নিয়ে পালন করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের শেষ ১০ দিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’ (বুখারি)।
রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বহু মুসল্লি জামাতে সালাত আদায় করেন। কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, জিকির, দান-খয়রাত করেন মুসলমানরা। রোজাদার মুসলমানগণ ক্ষমার শেষ সুযোগ মনে করে এ রাতে মোনাজাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন। বিশেষ করে করোনা থেকে মুক্তির জন্য কান্নাকাটি করেন।
