চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা

আপডেট : ২০ মে ২০২০, ২৩:০৭

দেশে যে হারে শিক্ষিত বাড়ছে, সেই হারে কর্মক্ষেত্র বাড়ছে না। ফলে অনেকেই বেকার থেকে যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখা শেষ হলেও জুটছে না কাঙ্ক্ষিত চাকরি। শিক্ষিত বেকাররা নিজ জেলায় ব্যর্থ হয়ে চাকরির সন্ধানে ভিড় করছেন রাজধানীতে। এ সুযোগে এক শ্রেণির প্রতারক চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে আছে। এই ফাঁদে পড়ে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। এতে অনেকে চাকরি পাওয়ার আসায় উপরি দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। কিন্তু মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিণটি।

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব ঘোষ এখন ভিটাবাড়ি হারানোর পথে। গাজীপুর অস্ত্র কারখানায় গেট গার্ড পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেয় ডিগনিটি সিকিউরিটি সার্ভিসের কর্মকর্তারা। কিন্তু চাকরি দিতে পারেনি, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিপ্লব ঘোষ। রূপালী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঐ টাকা দিয়েছিলেন বিপ্লব। এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক তার পিতার ভিটাবাড়ি দখল নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিপ্লব ঘোষ বলেন, ডিগনিটি সিকিউরিটি সার্ভিসের কাছে টাকা দেওয়ার অনেক প্রমাণ তার কাছে আছে। ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ঐ চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। চাকরি পাওয়ার আগে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়। বাকি দেড় লাখ চাকরি পাওয়ার পর দেওয়ার চুক্তি হয়। ডিগনিটি সিকিউরিটি সার্ভিস শাখা, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ঢাকা, রূপালী ব্যাংকের ০৩৫৬০২০০০৪২৭৯ অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা মোবারকনগর শাখা রূপালী ব্যাংক থেকে ঐ টাকা পাঠানো হয়। যার রশিদের কপি তার কাছে আছে। পরে চাকরি দিতে না পারায় টাকা ফেরত দেওয়ার কথা এক বছর ধরে বলে আসছে তারা। মোবাইলে এসব কথোপকথনের রেকর্ডও আছে। ডিগনিটি সিকিউরিটি সার্ভিসের মালিক আহসান হাবিব মোল্লার কাছে ঐ দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়। গত বছরের ২৬ নভেম্বর তিনি মারা যান। এরপর থেকে তার ভাই, ছেলে ও অফিস স্টাফদের কাছে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলে, তারা তাতে রাজি হয়। কিন্তু দিচ্ছি, দেব বলে সময় পার করে যাচ্ছে। টাকা চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকে। অন্য দিকে রূপালী ব্যাংক তাদের ঋণ শোধ করার জন্য চাপ দিয়েই যাচ্ছে। বিপ্লব ঘোষ প্রয়াত আহসান হাবিব মোল্লার ছেলে পাপনের সঙ্গে সম্প্রতি কয়েক দফা যোগাযোগ করেন। এ সময় পাপন বলেন, করোনার কারণে এখন লকডাউন চলছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চাকরির ব্যবস্থা করবেন তিনি।

বিপ্লব ঘোষ খুবই হতদরিদ্র। তার বাবা দিনমজুর। মা অসুস্থ। তার শেষ সম্বল বলতে বসতভিটা তিন শতক জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। সেটাও চাকরির ঐ টাকা দেওয়ার জন্য রূপালী ব্যাংক, নলতা মোবারক নগর শাখায় মর্টগেজ রাখা হয়। এই টাকার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাপ দিচ্ছে। এখন ব্যাংক বাড়ি দখল করার হুমকি দিচ্ছে। বিপ্লব ঘোষ বলেন, যদি বাড়ি দখল করে তাহলে পরিবার নিয়ে রাস্তায় যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।  

এদিকে ব্যাংক, বীমা, এমএলএম কোম্পানি, বিপণন কোম্পানি, মার্কেটিং কোম্পানির নামে বেশি প্রতারণা করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাসে, জনসমাগম হয় এমন স্থানে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এতে পার্টটাইম চাকরির নামে ছাত্রছাত্রীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়। নিয়োগের নামে তাদের কাছ থেকে জামানত বা অন্যান্য খাতের অর্থ নিয়ে প্রতারকরা সটকে পড়ে। এসব বিষয়ে বেকারদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।