হু’র অনুমোদন নেই

সরকারি-বেসরকারি অফিসে জীবাণুনাশক টানেল ব্যবহার বন্ধে উকিল নোটিশ

আপডেট : ২০ মে ২০২০, ২৩:০৮

সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জীবাণুনাশক টানেল ব্যবহার বন্ধে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) অনুমোদন না থাকার পরেও সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জীবাণুনাশক টানেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশ্রিত জীবাণুনাশক এই টানেল ব্যবহার বন্ধ হওয়া জরুরি। এটা করা না হলে নাগরিকের স্বাস্থ্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। করোনাকালীন সময়ে এই জাতীয় জীবাণুনাশক যন্ত্র সরবরাহ ও স্থাপন করে একটি চক্র দেশে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের বাজার তৈরি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে চায় বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব, বিদ্যুত্ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আইইডিসিআরের পরিচালক, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর ই-মেইল ও ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশপ্রাপ্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বনের কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি বক্স, চেম্বার, টানেল, গেইট ও বুথের মাধ্যমে মানুষের দেহে সরাসরি জীবাণুনাশক ছিটিয়ে করোনার জীবাণু দূর করার পদ্ধতি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিতে দেখা যাচ্ছে। গত ১৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে দেশের সকল সিভিল সার্জনকে চিঠি দিয়ে জীবাণুনাশক টানেল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিন্তু ১১ মে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। ঐ বিধিমালার এক নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে ‘প্রয়োজনীয় সংখ্যক জীবাণুমুক্তকরণ টানেল স্থাপনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে’। এক মাসের মধ্যে একই বিষয়ে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।  

নোটিশে বলা হয়েছে, হু মানবদেহে কোনোভাবেই ব্লিচ থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের জীবাণুনাশকের ব্যবহার নিষেধ করেছে। তারা বলেছে এইরূপ জীবাণুনাশকের প্রয়োগ চোখ এবং চামড়ার বড়ো ধরনের ক্ষতি করতে পারে। মানুষের পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবান এবং সীমিতভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহারের কথা বলেছে হু। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) স্পষ্ট করে তাদের গাইডলাইনে জানিয়েছে তারা স্যানিটাইজিং ট্যানেলের ব্যবহার সমর্থন করে না। এছাড়া তারা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, এরূপ জীবাণুনাশক প্রয়োগে করোনার ভাইরাস ধ্বংসের কোনো প্রমাণ নেই। বরং টানেলে যে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় তা থেকে চোখ, চামড়া এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতির কথা বলেছে।

এছাড়া ভারতের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিগত ১৯ এপ্রিল মানবদেহে জীবাণুনাশক ব্যবহার কোনো প্রকারেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই ধরনের রাসায়নিকের মাধ্যমে তৈরিকৃত জীবাণুনাশক শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতিকারক বলে নির্দেশনা জারি করেছে। মালয়েশিয়ান সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ পরিচালিত গবেষণাতেও মানবদেহে এইরূপ জীবাণুনাশক প্রয়োগ বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে যে কোনো ডিভাইজের মাধ্যমে মানবদেহে জীবাণুনাশক ব্যবহার এবং প্রয়োগ বাতিল করেছে। সেজন্য মানবদেহে ব্যবহার কিংবা প্রয়োগের জন্য ব্যবহূত যে কোনো ধরনের ডিভাইজ যেমন বক্স, চেম্বার, টানেল, গেট ও বুথ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।