ছাত্ররা পরীক্ষায় ফেল করে কেন?

আপডেট : ২১ মে ২০২০, ২০:৫৮

গত বুধবারের পর

 

কাজেই দেখছি, পরীক্ষাই পরীক্ষা ফেলের বড় কারণ। অর্থাত্ পরীক্ষার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ না করে ছাত্রদের শিক্ষাকে কীভাবে সর্বতোমুখী (all round) করা যায়, সেইটেই আমাদের চিন্তা করে দেখতে হবে। এ সম্বন্ধে আমার যা বক্তব্য, সেটি এ প্রবন্ধের পরিসরে বলা যাবে না। পরে কখনো বলব।

দ্বিতীয়ত, পরীক্ষার ও শিক্ষার বাহন আমাদের বিদেশি ভাষা। আজ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে স্বাধীন দেশে যে এ সম্বন্ধে কিছু বলবার প্রয়োজন হয়, এইটেই আমাদের পক্ষে গভীর লজ্জা ও পরিতাপের বিষয়। যেকোনো জাতির পক্ষেই শিক্ষার বাহন হতে পারে একমাত্র তার মাতৃভাষা। কেননা, বিদেশি ভাষায় প্রদত্ত শিক্ষা ছাত্ররা আত্মস্থ করতে পারে না। বিদেশি ভাষায় কতগুলো পাঠ্যবস্তু ছাত্রদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, তাদের ওপর ইট-পাথরের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার চেয়েও কষ্ট ও ক্ষতিকর। আমাদের ছাত্ররা তাদের জ্ঞাতব্য বিষয়গুলো ইংরেজিতে পড়তে গিয়ে বুঝতে পারে না ভালোমতো, লিখতে গিয়ে তো কিছুতেই কলম এগোয় না। ইংরেজিতে মনের ভাব প্রকাশ করার কথা তাদের ক্ষেত্রে ওঠেই না। কাজেই তারা ফেল করে। শুধু তা-ই নয়, বিদেশি ভাষার পাষাণে মাথা ঠুকতে তাদের মাথাটিও একেবারে ঝরঝর হয়ে যায়, অর্থাত্ অমন অমূল্য চিন্তাশক্তি যেটা বিধাতার অলৌকিক দান, সেটিই হারিয়ে বসে। যেহেতু পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে চিন্তা করা দরকার, ছাত্ররা তা করে না। ইংরেজি তারা শুধু পড়েই যায়, মুখস্থ করে, ইংরেজিতে তারা চিন্তা করতে পারে না; কারণ, চিন্তা মানুষ তার নিজ ভাষাতেই করে। এমনিভাবে অন্যদিকে ক্রমাগত শক্তির অপব্যয় করে এবং চিন্তাশক্তিকে উপবাসী রেখে সে শক্তিকে ছাত্ররা পঙ্গু করে ফেলে। আমাদের ছাত্রদের চিন্তাশক্তির দৈন্যের এইটেই প্রধান কারণ। বিষয়বস্তু তো তারা ভালো রকম আয়ত্ত করতে পারেই না, উপরন্তু প্রকৃতি প্রদত্ত স্বকীয় চিন্তাশক্তি পর্যন্ত তাদের বিনষ্ট হয়ে যায় আমাদের বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতির এই গুণ। বহু ছাত্র আছে দেখতে পারেন, যাঁরা কোনো সাধারণ প্রশ্ন করলেও পুথির বুলি না আওড়ে নিজের বুদ্ধি থেকে কোনো জবাব দিতে পারবে না। যেটি একজন গ্রাম্য মূর্খ ব্যক্তিও পারবে। এটি বড় অসহনীয় অবস্থা। যে পর্যন্ত আমাদের শিক্ষার বাহন বাংলা না হচ্ছে, সে পর্যন্ত এ অবস্থা থেকে নিস্তার পাওয়ার উপায় নেই। (সংক্ষেপিত)