জীবন বাঁচানোর তাগিদ কোচের

আপডেট : ২১ মে ২০২০, ২১:০২

 সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

তার এই জীবনে এমন দুর্যোগময় পরিস্থিতি আর দেখেননি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। বিশ্বের সব শক্তিশালী দেশেকেই করোনোর ভাইরাসের কাছে মাথা নত করতে হয়েছে। এর মধ্যে মাঝে মাঝে খেলোয়াড়রা নিজেরা কথা বললেও গতকাল জাতীয় দলের সব ফুটবলারকে এক সঙ্গে নিয়ে কথা বলেছেন জেমি ডে। নিজ দেশে ইংল্যান্ডে বসে সঙ্গে জাতীয় দলের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। সবাই সরাসরি সবার কথা শুনেছেন মতামত দিয়েছে অনলাইন মিটিংয়ে।

জাতীয় দলের আশরাফুল রানা, শহিদুল ইলাম সোহেল, জীবন, মতিন মিয়া অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, সাদ উদ্দিন, বিপলু আহমেদসহ ৩৪ ফুটবলার অংশ নেন। কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ, তাবিথ আওয়াল, বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বাফুফের অন্যান্য অফিসিয়ালরা যুক্ত হয়েছেন ভিডিও কনফারেন্সে। তাদের কথায় একটা বিষয় খুব বেশি উঠে এসেছে। এই মুহূর্তে নিজের জীবন বাঁচাতে হবে। জীবনের সঙ্গে সঙ্গে পেশাগত বিষয়টাও মাথায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জেমির পরিষ্কার কথা, ‘জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। জীবন বাঁচাতে ঘরে থাকার কথা বলা হয়েছে। জাতীয় দলে যারা খেলছেন তাদের মধ্যে একটা টিমওয়ার্ক থাকতে হয়। নিরাপদে থাকাটাও একটা টিম ওয়ার্ক।’

এই পরিস্থিতি থাকবে না, জেমি এবং বাফুফের কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের কানে সেই মন্ত্রণাই দিয়েছেন। কালো মেঘ সরে গিয়ে আবার আলো ফুটবে। আবার দেখা হবে খেলার মাঠে। আবাসিক ক্যাম্প হবে, আন্তর্জাতিক ম্যাচ হবে, অতীতের মতো আবার একটা পরিবার হয়ে ফুটবল খেলব, দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করব। এই মন্ত্রণা শুধু জেমির একার নয়। কর্মকর্তারাও জেমির মন্ত্রে মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিয়েছেন।

জাতীয় দলের প্রায় সব ফুটবলারই ঢাকার বাইরের। লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় তারা সবাই নিজ নিজ বাড়িতে চলে গিয়েছেন। কার কী অবস্থা, কে কোথায় আছেন, জেমি সব কিছুই জানতে চেয়েছেন। জেমির সবেচেয়ে বড়োগুণ খেলোয়াড়দের পারিবারিক খোঁজও নেওয়া। কোনো হতাশা আছে কি না, আপদবিপদ আছে কি না। কীভাবে এই সয়গাট কাজে লাগিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করা যায় তা নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। খেলোয়াড়রা সবই শুনেছেন আবার হতাশার কথাও বলেছেন লিগটা পরিত্যক্ত হয়ে গেছে বলে। কর্মকর্তারা বুঝিয়েছেন লিগ নিয়ে। খেলোয়াড়রা কোচকে জানিয়েছেন তারা জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন। তলে লিগটা যেন হয়। কর্মকর্তারাও আশ্বাস দিয়েছেন পরিস্থিতি ভালো হলে আবার মাঠে গড়াবে ফুটবল। আর জেমিকে জানিয়েছেন তারা জাতীয় দলের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন। জেমি খেলোয়াড়দের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নেন।