আলম সাব্বির, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠ জুড়ে ছোটো ছোটো গাছে সবুজ পাতার সমারোহ, প্রখর রোদের মধ্যেও আনন্দ আর উত্ফুল্ল নিয়ে বাদাম তুলছেন কৃষক পরিবারের লোকজন। তাহিরপুর বাদঘাট বাজার থেকে বড়োদল (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদমুখি রাস্তা দিয়ে দিয়ে যাওয়ার পথে গুঠিলা গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল মতিন বলেন, এবার পাঁচ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ঝয় থেকে সাত মণ বাদাম উত্পন্ন হবে বলে আশাবাদী।
বাদাম তোলার কাজে নিয়োজিত শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া হাবিবা বেগমের (১২) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুল বন্ধ তাই চলে এসেছে বাদাম তুলতে। আর প্রতি বছর গ্রামের লোকজন এভাবেই দল বেঁধে নারী পুরুষরা কৃষকদের বাদাম তুলে দেন, বিনিময়ে ১০ ভাগের এক ভাগ পান তারা। এতে করে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পারিশ্রমিক পায় বাদাম তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, তাহিরপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ১২৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। আর বাদাঘাট ও বালিজুড়ী ইউনিয়নের বাদামের দুটি প্রদর্শন প্লট আছে কৃষি অফিসে। বাদামের ফলনও গত বছরের তুলনায় এবার ভালো।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান-উদ-দৌলা জানান, এ বছর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টিতেই বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। এখন উত্সবমুখর পরিবেশে কৃষকরা বাদাম তোলা আর শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। করোনার প্রভাবে কৃষকরা বাদাম বিক্রি করতে পারছেন না ঠিক, কিন্তু একটু ধৈর্য ধরে সময় নিয়ে বিক্রি করলে অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করি।
