দেশে মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। এক দিনেই রেকর্ড ২২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০৮ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১ হাজার ৭৭৩ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ৫১১ জন। গতকাল এক দিনে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গতকাল দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির সর্বশেষ এ তথ্য তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস শনাক্তে আরো ১০ হাজার ১৭৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ২৬২টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ২ লাখ ১৪ হাজার ১১৪টি। আক্রান্তদের মধ্যে গতকাল মারা গেছেন ১৯ জন পুরুষ ও তিন জন নারী। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হ?য়েছেন আরো ৩৯৫ জন। এ নি?য়ে সুস্থ হ?য়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৬০২ জনে। মারা যাওয়া ২২ জনের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের দুই জন, ত্রিশোর্ধ্ব এক জন, চল্লিশোর্ধ্ব দুই জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১০ জন, ষাটোর্ধ্ব তিন জন, সত্তরোর্ধ্ব দুই জন ও ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সি দুই জন। এদের ১০ জন ঢাকা বিভাগের, আট জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিন জন সিলেট বিভাগের ও এক জন ময়মনসিংহ বিভাগের। ঢাকার মধ্যে রাজধানীতে আট জন, ঢাকা জেলায় এক জন ও নারায়ণগঞ্জের এক জন রয়েছেন। চট্টগ্রামের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার চার জন, চাঁদপুরে তিন জন ও কক্সবাজারে এক জন ছিলেন। সিলেট বিভাগের মধ্যে সিটি করপোরেশনের এক জন ও অন্যান্য জেলার দুই জন ছিলেন। আর ময়মনসিংহ বিভাগের যিনি মারা গেছেন তিনি ময়মনসিংহ শহরের বাসিন্দা ছিলেন।’
গত বুধবারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন মারা গেছেন। ১০ হাজার ২০৭টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬১৭ জনের দেহে, যা এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। সেই হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত এবং শনাক্ত—উভয় সংখ্যা শুধু বাড়েনি, হয়েছে রেকর্ডও। এর আগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছিল ২১ জনের গত ১৮ মে। গতকালের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ১৫৪ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৩ হাজার ৮৯৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৩ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৬ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। এরমধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৭ হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ৬ হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি, ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৩২ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৫৯১ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ১৫২ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৪ হাজার ৩৮২ জন।
দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক সেবা দেওয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে। ডা. নাসিমা সুলতানা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান বুলেটিনে।
