ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ এর আঘাতে রীতিমতো তছনছ হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। কলকাতাসহ আশপাশের অগণিতজেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কবলে প্রাণ গেছে অন্তত ৭২ জনের। মোবাইল, ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিদ্যুত্ সংযোগ নেই অগণিত এলাকায়। বহু জায়গায় নেই খাবার পানি। গাছপালা পড়ে ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও। ফলে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এমন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতি দেখে যেতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মমতা নিজে শনিবার ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
গতকাল পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বলেন, ক্ষতি যা হয়েছে, তা অবর্ণনীয়। ভারত সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আর্থিক সহায়তা করুক। এই মুহূর্তে এটাই সবচে জরুরি। এখন রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে। তিনি জানান, যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে কলকাতায় ১৫, হাওড়ায় ৭, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৮, পূর্ব মেদিনীপুরে ৬, হুগলির চন্দননগরে ২, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে ৬, ডায়মন্ড হারবারে ৮, সুন্দরবনে ৪ এবং নদীয়ার রানাঘাটে ৬ জন রয়েছেন। উত্তর ও দক্ষিণ পরগনায় সুপেয় পানির প্রবল সংকট দেখা দিয়েছে। মমতা বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পরিস্থিতি জানতে তাকে ফোন করেছেন। তখনই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে রাজ্যের পরিস্থিতি দেখতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে নরেন্দ্র মোদিও টুইট করে জানিয়েছেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকায় কাজ করছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে তার সরকার। জনগণকে সহযোগিতার পথে চেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকবে না।’?
আম্ফানের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাগরদ্বীপ, কাকদ্বীপ, কুলতলী, গোসাবা সংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনা জেলারও বহু এলাকা জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। সেসব জায়গায় এখনো উদ্ধার কাজ শুরু করা যায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় ঝড়ের তাণ্ডবে হাজার হাজার গাছ পড়ে গেছে। আগেভাবেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ঐসব এলাকা থেকে ৫ লাখেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাতে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমেছে। তারপরও যা হয়েছে তা ভয়াবহ। কয়েক হাজার মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। অগণিত খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। বন্ধ রয়েছে ক্যাবল টিভির সংযোগ। পানির নিচে চলে গেছে কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে। অর্ধেক ডুবে রয়েছে বিমানগুলো। হঠাত্ দেখলে মনে হবে নদীতে জাহাজ ভাসছে। প্রবল ঝড়ে সেখানকার দুটি হ্যাঙ্গারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কলকাতা শহরের ওপর দিয়ে ১৩৩ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সঙ্গে ছিল ২৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি। তাতেই এই পরিস্থিতি। প্রবল বৃষ্টিতে পানি ঢুকে যায় কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসেও।
