ঘরই এখন অন্তরার কারাতে কোর্ট

আপডেট : ২২ মে ২০২০, ২১:০৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

করোনা ভাইরাসের কারণে গোটা ক্রীড়াঙ্গনেই বিরাজ করছে স্থবিরতা। তবে খেলা পিছিয়ে গেলেও নিজেকে ফিট রাখতে অনুশীলনে বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন ২০১৯ এসএ গেমসে একটি স্বর্ণসহ তিনটি পদক এনে দেওয়া কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। ঘরকেই রীতিমতো কারাতে কোর্ট বানিয়ে নিয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জিতলেন অন্তরা, মেঝ বোন জান্নাতুল ফেরদাউস সুমীও জুনিয়র বিভাগ থেকে স্বর্ণপদক জিতে ফেরেন ঘরে। কারাতের জাতীয় পরিমণ্ডলে আসার ক্ষণ গুনছেন আরেক বোন সানজিদা সিদ্দিকা শোভা, হাতেখড়ি হচ্ছে সবার ছোটো সাথীরও। অন্তরা জানালেন, সব বোনের কারাতে সম্পৃক্ততা থাকার কারণেই মূলত চলমান স্থবির পরিস্থিতিতেও অনুশীলন চালু রাখার সুযোগ পেয়েছেন। ইত্তেফাকের সঙ্গে একান্ত আলাপে বললেন, ‘আমার বোনেরা সবাই কারাতে-ফ্রিক। জাতীয় পর্যায়ে দুই জন খেলছি। তাই এটা করা সহজ হয়ে গিয়েছিল।’

২০২০ অলিম্পিকেই কারাতের অভিষেক হওয়ার কথা। এর ফলে অলিম্পিকের বিধিনিষেধ মোতাবেক কারাতের বেশ কিছু নিয়মনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। ফিটনেস ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও এখন একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ কারাতেকাদের। 

‘আমাদের খেলাটায় ধারাবাহিকতা, মানসিকতা, আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি ফিটনেস অতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। মাসখানেকের মতো বিরতি পড়লেই আকাশ-পাতাল পার্থক্য হতে পারে পারফরম্যান্সে। তার ওপর নিয়মনীতিতে একটু পরিবর্তন এসেছে, এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারও ছিল। এ জন্যেই বাসায় আমরা বোনেরা মিলে অনলাইন ঘেঁটে অনুশীলন শুরু করেছি।’

গেল বছরে এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ের পর চলতি বছরে বড়ো স্বপ্নই দেখছিলেন অন্তরা। কিন্তু করোনা আপাতত পথ আগলে দাঁড়িয়েছে তার। কিছুটা হতাশাই ঝরে পড়ল আনসারের এই কারাতেকার কণ্ঠে, ‘গত বছর এসএ গেমস থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসটাকে কাজে লাগিয়ে চলতি বছর আরো ভালো করার স্বপ্ন দেখছিলাম। অলিম্পিকে খেলার সুযোগ ছিল, এশিয়ান গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও পদক জেতার সংকল্প করেছিলাম। কিন্তু সব তো এখন বন্ধই হয়ে গেছে-যাচ্ছে! তবুও লক্ষ্য থেকে সরছি না। নিজেকে প্রস্তুত রাখছি।’

চলমান এই স্থবিরতার ফলে আয়ও থমকে গেছে। অন্তরা বলেন, ‘দেশের অন্য খেলার মতো আমাদের তো আর বোর্ড-ফেডারেশন কিছু দেয় না! আমাদের আয়টা তাই খেলার প্রাইজমানির ওপর নির্ভর করে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় কোচিং করিয়ে কিছু আয় হতো, আর সবকিছুর মতো সেগুলোও তো এখন বন্ধ!’

পরিস্থিতি হতাশাজনক। তবুও সেটা অনুশীলনে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে না তার। আন্তর্জাতিক আসরে পদক জয়ের নেশার যে এমনই শক্তি!