মন ভালো নেই।
বিশ্বজুড়ে মহামারি। গভীর বেদনায় সব আচ্ছন্ন। আলো-অন্ধকারে ঢাকা পড়েছে পুরো পৃথিবী। কবে আসবে আলো?
কবে?
মৃত্যুর মিছিলেও জন্ম হতে থাকে নবজাতকের। বেদনার পাশে হাঁটে আনন্দ।
তবুও ঈদ আসে।
ঈদ মানে খুশি।
ঈদ মানে আনন্দ।
অন্ধকারে উঁকি দেয় ঈদের চাঁদ।
আশাই জীবন। আমরা বেঁচে থাকি আশার মধ্যে। যত হতাশা আসুক—যত ব্যর্থতা আসুক—যত অন্ধকারে বন্দি থাকি না কেন—আলো আসবেই। আলোর স্রোতে আমরা ভেসে যাব।
আবার পৃথিবী সুস্থ হবে। উজ্জ্বল হবে। আনন্দময় হবে। এই অন্ধকারে সেই আলোর প্রত্যাশা আমাদের সকলের।
ঈদ এলো। সেই আনন্দ ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে ঈদ এলো।
কিন্তু আমাদের মন বিষণ্ন। স্থবির পৃথিবী। ভয় আর আশঙ্কায় আমাদের দিন কাটছে।
এখন উত্সব মানে বিবর্ণ ও বেদনাবহ।
কী করব এবার ঈদে?
আনন্দ থাকবে।
কিন্তু উত্সব উদযাপন থাকবে না। মহামারি থেকে বাঁচার জন্য এখন তৈরি হয়েছে সামাজিক দূরত্ব।
মানুষের সাথে মানুষের মিলন হবে মানসিক। চলবে না কোলাকুলি। করমর্দন।
হায়। এ কোন পৃথিবী এলো অন্ধকার হয়ে। এবার ঈদে তাই আনন্দ নেই। নেই ছন্দ ও সুর।
এবার বিলিয়ে দেয়ার ঈদ এসেছে। চারিদিকে কাজকর্ম নাই। আয়-রোজগার নাই। অচল এক পৃথিবী। চারিদিকে অভাব ও হাহাকার।
এরই মধ্যে ঈদ এলো।
এবার ঈদে জাঁকজমকের কোনো প্রয়োজন নেই। অকারণ কেনাকাটার কোনো দরকার নেই।
নিজের চাহিদাকে এবার ছোটো করে আনব ঈদ-আনন্দে। নিজে একটা পোশাক না কিনে সেই টাকা বিলিয়ে দেব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের।
নিজেরা খাবারের বিপুল সমাহার যেন না করি। যারা ঈদের দিনে প্রয়োজনীয় খাবার পাবে না তাদের মাঝে বিলিয়ে দেব।
এবার ঈদ আত্মত্যাগের।
এবারের ঈদ ভোগের নয়। উপভোগের নয়। এবার ঈদ সত্যিকার অর্থে ত্যাগের মহিমা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।
চাঁদ উঠবে।
ফুল ফুটবে।
ঈদ আসবে।
এটাই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম।
ঈদ একার নয়।
পরিবারের নয়।
ঈদ সকলের।
সবাই মিলে যদি আনন্দ করতে না পারি তবে সেটা উত্সব হবে না।
করোনার সংকটেও যেন ক্ষণিকের আনন্দ আমাদের হূদয়-মন ছুঁয়ে যায়—সেই প্রত্যাশায় ঈদ আসুক।
ঈদ আসবেই।
ঈদ মানে আনন্দ।
ঈদ মানে উত্সব।
