খালেদ হোসাইন
বছর বছর ঈদুল ফিতর আনন্দ দেয় প্রাণের ভিতর—
নতুন পোশাক, নতুন জামা কোথাও যেতে নেই বাধা, মা!
আনন্দের ওই একই ধরন এবার আমরা করব স্মরণ।
কারণ এ ঈদ অন্য রকম সব মানুষের প্রাণে জখম।
সবার যা তা ও-আমারই করোনা এক মহামারি
সারা বিশ্বে আমার দেশে মৃত্যুতে সব যাচ্ছে ভেসে।
বাঁচার উপায় দূরে থাকা তবু হূদয় জুড়ে থাকা
ছোট্ট দ্বীপে—এক সাগরে— থাকতে হবে একলা ঘরে।
এ তো কঠিন জীবন-যাপন নেই মোলাকাত, স্বজন আপন।
এবং সবাই থাকলে ঘরে উপার্জন হয় কেমন করে?
নিত্য এনে নিত্য খায় এমন মানুষই সংখ্যায়
এই দেশে তো সবচে বেশি আমার পাড়া-প্রতিবেশী।
বাইরে যাওয়া নিষেধ, আবার থাকলে ঘরে খিদে
ঘরে-বাইরে সবখানেই বাঁচার অসুবিধে।
আবার এলো ঈদুল ফিতর আনন্দ নেই কারো ভিতর—
দিন যাপনের ঘূর্ণিপাকে মানুষ যদি কষ্টে থাকে
এক্কেবারে ঘাড়টি ঘেঁষে হুমকি মারে মৃত্যু এসে
নতুন নতুন জামা-জুতোয় বিবেচনাবোধকে গুঁতোয়।
অনেক মানুষ অনাহারে হয়তো না-ও বাঁচতে পারে
অনেক মানুষ মৃত্যুমুখে বাধ্য হয়ে আছে ঝুঁকে
আমোদ-ফুর্তি এখন মানায়? মানুষ তো সব কয়েদখানায়।
জামা-জুতোর যেসব টাকা বিলালেই আনন্দে থাকা।
বিলিয়ে দেবার আনন্দই মিলিয়ে দেবে সব
প্রাণের ভেতর তখন হবে অনন্ত মচ্ছব।
