শফিকুর রহমান রয়েল
কোভিড-১৯ মহামারি এরই মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঢুকিয়ে দিয়েছে অভূতপূর্ব সংখ্যক অনিশ্চয়তা। সামাজিক দূরত্ব বজায়ের কৌশল ব্যবহারের পাশাপাশি বর্ধিষ্ণু সংক্রমণ প্রতিরোধে রীতিমতো যুদ্ধ চলছে। আসন্ন এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় আঁচ করতে পেরে অনেক দেশ বাজার স্থিতিশীল রাখতে গোড়া থেকেই আর্থিক হস্তক্ষেপ ঘটিয়েছে। একের পর এক আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে চরম বিপর্যয় ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে। উন্নত রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশের সরকাররাও এক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে যাতে করে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে একেবারে পথে বসে পড়াটা অন্তত ঠেকানো যায়।
অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে তাত্ক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যসমস্যা দূর করাটা যে একেবারে অত্যাবশ্যক, দেরিতে হলেও বিশ্ব এটি বুঝতে পেরেছে। করোনায় ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হলে পুনরুদ্ধারের পরিস্থিতি কেমন হবে, তার মূল্যায়নসহ কারা সবচেয়ে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, সেসব বিষয়ে গবেষকরা তাদের গবেষণা শুরু করে দিয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। এ ব্যাপারে তারা প্রধানত ২০১৯ সালের বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা সূচকের আশ্রয় নিয়েছেন।
ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এফএম গ্লোবাল ব্যবসায়িক আবহ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্পোরেট পরিচালন, ঝুঁকির পরিবেশ ও সাপ্লাই চেইন লজিস্টিকসের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের জন্য বিশ্বের ১৩০টি দেশের বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা সূচক তৈরি করেছিল। ঐ স্থিতিশীলতা সূচক ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রারম্ভিক পর্যায়ের নানা উদ্যোগের ভিত্তিতেই এফএম গ্লোবাল ব্যাখ্যা করেছে যে, করোনা মহামারি শেষে কোনো দেশ তাদের আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারবে খুব একটা বেগ না পেয়েই।
বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা সূচকে দুই নম্বর অবস্থানে থাকলেও করোনাযুদ্ধে জয়ী হয়ে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা তাদেরই প্রথম। শক্তিশালী সাপ্লাই চেইনের উপস্থিতির পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমে দুর্নীতি নেই বললেই চলে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কথা উঠতেই ড্যানিশরা এগিয়ে এসেছিল সবার আগে। অপ্রয়োজনীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্কুল-কলেজ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল গত ১১ মার্চ। মাত্র কয়েক জন করোনা রোগী ধরা পড়ার পরই তারা বিদেশিদের জন্য ১৪ মার্চ থেকে সব সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে বেশ ভালো ফল পেয়েছে ডেনমার্ক। স্থিতিশীলতার সূচকে সিঙ্গাপুর ২১ নম্বরে থাকলেও অর্থনীতির শক্তিমত্তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটিতে রয়েছে দৃঢ় অবকাঠামো ও নিম্ন দুর্নীতি। তাদের নিজেদের নাগরিকদের মধ্যে করোনা পজিটিভ প্রমাণিত হয়েছে খুব কমসংখ্যক লোক। অথচ সেখানে বসবাসরত বিদেশিদের বেলায় চিত্রটা উলটা। যুক্তরাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতার প্রশ্নে পশ্চিম, সেন্ট্রাল ও পূর্বাঞ্চলসমূহে ভাগ করা হলেও অবস্থান যথাক্রমে ৯, ১১ ও ২২। কর্পোরেট শাসনে সাম্প্রতিক উন্নতিসমূহ সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্থিতিস্থাপকতার প্রশ্নে বেশ বড়ো লম্ফ দিয়েছে রোয়ান্ডা। ৩৫ ধাপ এগিয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান ৭৭, যা কিনা আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। প্রতিবেশী গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে গত বছর ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে যেভাবে ঐ ভাইরাসটির অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে দিয়েছিল, তা এককথায় নজিরবিহীন। করোনার ব্যাপারেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। রোয়ান্ডার অর্থনীতির বিচারে এখন রোল মডেল। —বিবিসি অনুসরণে
সেরা ১০
স্থিতিস্থাপক
দেশ
n ১.নরওয়ে
n ২. ডেনমার্ক
n ৩. সুইজারল্যান্ড
n ৪. জার্মানি
n ৫. ফিনল্যান্ড
n ৬. সুইডেন
n ৭. লুক্সেমবার্গ
n ৮. অস্ট্রিয়া
n ৯. যুক্তরাষ্ট্র
n ১০.যুক্তরাজ্য
