করোনা মহামারি

ইকুয়েডরে মরদেহ শনাক্তে মর্গ এবং কন্টেইনারের দিকে ছুটছেন স্বজনরা

আপডেট : ২৭ মে ২০২০, ১২:৫৪

ইকুয়েডরে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালগুলো  মৃতদের পরিচয় শনাক্তের কোনও চেষ্টা করছে না। পরিচয় শনাক্ত ছাড়াই মরদেহগুলো মর্গ এবং জাহাজের কন্টেইনারের মধ্যে ফেলে রাখা হচ্ছে।  

ইকুয়েডের সবচেয়ে বড় শহর গুয়াকুইল । সেখানকার বাসিন্দা ডোলোরেস সেন্টেনো তার বাবার মরদেহ প্রায় দুই মাস ধরে মর্গ এবং কবরস্থানে খুঁজছেন। গত এপ্রিলে শ্বাস কষ্টে  মারা যান কেন্টেনোর বাবা। তবে সেন্টেনো জানেন না তার বাবা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না। 

সম্প্রতি একটি কন্টেইনারের খোঁজ পেয়েছেন সেন্টেনো। তার আশা হয়তো তার ৬৩ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবার মরদেহ ওই কন্টেইনারের মধ্যে পাবেন তিনি। জানা গেছে, কন্টেইনারটিতে ১৩০ জনের মরদেহ রয়েছে যাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। আর তাই ওই কন্টেইনার থেকে বাবার মরদেহ পাওয়ার আশা করছেন সেন্টেনো।

ভিক্টোর হুগো ওরেল্লানা নামের আরেক জন জানায়, আমি আমার মায়ের মরদেহ কন্টেইনারে খুঁজেছি, কবরস্থানে খুঁজেছি। কোথাও পাইনি তার মরদেহ। এমনকি সে কোন তালিকাতেও নেই। 

 গত মার্চ-এপ্রিলে করোনায় মৃত্যু বেড়ে যায় ইকুয়েডরে। তখন মর্গে জায়গা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে করোনায় আক্রান্তদের মরদেহ বিশাল আকারের  কন্টেইনারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানায় ইকুয়েডর সরকার। তখন ইকুয়েডর সরকারের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয় যে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে মরদেহ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা হবে। তবে পরে মরদেহ ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ ওঠে ইকুয়েডর সরকারের বিরুদ্ধে।

আর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত হাসপাতালের মর্গ এবং কন্টেইনারগুলোতে খোঁজ করছেন তাদের প্রিয়জনের মরদেহ পাওয়ার জন্য।  এ বিষয়ে ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া পাউলা রোমো বলেন, সরকার মরদেহের পরিচায় শনাক্তে চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

ইকুয়েডরে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ। সরকারি হিসেবে দেশটিতে মারা গেছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। যদিও সরকারের থেকে বলা হচ্ছে, ইকুয়েডরে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। করোনা পরীক্ষা পর্যাপ্ত না করাতে পারায় খোদ সরকারের পক্ষ থেকেই এমনটি বলা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এআর