ঈদ শেষে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কর্মমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। গ্রামের বাড়ি থেকে স্বজনদের সাথে ঈদ উদযাপন শেষে কাজে যোগ দিতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বাড়ছে কর্মমুখী মানুষের ভিড়। পাশাপাশি ফেরিঘাটের জিরোপয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের ১ কিলোমিটার রাস্তার একপাশে ঢাকাগামী শত শত বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছোট গাড়ির দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছিল কর্মমুখী মানুষের ভিড়। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, ব্যাটারিচালিত অটোবাইক, মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রযোগে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নদী পার হয়ে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় কর্মস্থলে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ঢাকা থেকেও আসছে অসংখ্য যাত্রী। করোনা দুর্যোগকালে যাওয়া-আসার এই প্রতিযোগিতায় সামাজিক দূরত্ব মানা তো দুরের কথা বরং গাদাগাদি করে ফেরিতে উঠে কর্মস্থলে যাওয়াই যেন প্রতিযোগিতা।
আরো পড়ুন: রংপুরে স্পিরিট পানে আরো ৩ জনের মৃত্যু
মাগুরা থেকে আসা সাভারের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত আল আমিন, রুবেল, শাহানাজসহ যাত্রীরা জানান, পরিবারের সাথে ঈদ করে ঢাকায় ফিরছি। পথিমধ্যে যানবাহন বদলে ছোট গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘাটে এসে পৌঁছেছি। এমনিতেই করোনা সংক্রমণের ভয় রয়েছে তবুও পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পেরে ভালো লেগেছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মাহবুব আলী সরদার জানান, এই নৌপথে ছোট-বড় ১৪টি ফেরি রয়েছে। তবে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সবগুলো ফেরি ঘাটের পল্টুনের র্যাম ডুবে যাওয়ায় ৭টি ফেরি সচল রয়েছে। পল্টুনের র্যাম স্থানান্তরের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএএম
