মুশফিকের অম্লমধুর ১৫ বছর

আপডেট : ২৮ মে ২০২০, ২০:৫০

 ‘দেশের জন্য ১৫ বছর খেলতে পারা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এটা গর্ব করার মতোই ব্যাপার। আমার পরিবার, সতীর্থ, কোচদের ধন্যবাদ দিতে চাই,

তাদের ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।’

 স্পোর্টস রিপোর্টার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তপ্ত জমিনে ১৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ারের এমন মাইলফলক পার হওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ কতটা স্পেশাল তার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছিল মুশফিকের নিজস্ব ফেসবুকের পাতা। শেষ কিছুদিন নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের আলোকিত অধ্যায়ের ছবি পোস্ট করে মধুর স্মৃতি রোমন্থন করেছেন তিনি। ২০০৫ সালের ২৬ মে ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত লর্ডসে অভিষেক হয়েছিল মুশফিকের।

শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে যাত্রা করলেও এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল এক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান তিনি। বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার এবং ক্রিকেটের প্রতি তার নিবেদন অনুকরণীয়। গত ২৬ মে ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পূর্তির দিনে মানুষের সাহায্যে নিজেকে নিয়োজিত করতে নিজের প্রথম সমাজসেবা সংঘটন ‘এমআর১৫ ফাউন্ডেশন’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

অনেক প্রতিশ্রুতিশীল হলেও মুশফিকের শুরুটা আহামরি ছিল না। জাতীয় দলে জায়গা পাকা করতেই গলদঘর্ম হতে হয়েছিল। এমনকি দল থেকে বাদও পড়েছিলেন। আইসিএল কাণ্ডের পর দলে থিতু হন তিনি। এই লম্বা সময়ে তিন ফরম্যাটে ৩৭৪ ম্যাচে ১৪ সেঞ্চুরি, ৬৪ হাফ সেঞ্চুরি, ৩৩.৫২ গড়ে করেছেন ১১ হাজার ৮৬৯ রান। উইকেটকিপার হিসেবে ডিসমিসালের সংখ্যা ৩৯৭টি। টেস্ট ও ওয়ানডেতে সমানসংখ্যক ৭টি সেঞ্চুরি রয়েছে। সঙ্গে টেস্টে ৩টি ডাবল সেঞ্চুরি।

লম্বা এই অধ্যায় পাড়ি দিতে পেরে গর্বিত মুশফিক। প্রায় দেড় দশক পূর্তির গৌরব সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘দেশের জন্য ১৫ বছর খেলতে পারা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এটা গর্ব করার মতোই ব্যাপার। আমার পরিবার, সতীর্থ, কোচদের ধন্যবাদ দিতে চাই, তাদের ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।’

বাংলাদেশকে নেতৃত্বও দিয়েছেন মুশফিক। সাদা পোশাকে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোটা তার নেতৃত্বের সবচেয়ে বড়ো অধ্যায়। রঙিন জার্সিতে খুব সুখকর অভিজ্ঞতা আসেনি তার জন্য।

বাংলাদেশের ক্রিকেট মুশফিককে মনে রাখবে অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে বহুবার ক্যাচ মিস, রানআউট-স্টাম্পিং মিস করে দলের ভোগান্তির কারণ হয়েছেন ৩৩ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গলে ২০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরো দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন এই ব্যাটসম্যান।

আবার এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান অনেকবার দলকে হতাশায় ডুবিয়েছিলেন। তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির ম্যাচে ৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০১১ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ইনিংস শেষের ৪ বল আগে আউট হয়েছিলেন ১০১ রান করা মুশফিক। তবে সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতি ২০১৬টি-২০ বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে দলকে জয়ের কাছে এনেও আনাড়িকাণ্ডে আউট হওয়া এবং দলের হেরে যাওয়া। ২০১৮ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের লড়াকু ইনিংস অবশ্য গর্বের স্মৃতি। এছাড়া নিদাহাস কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, গত বছর দিল্লিতে ভারতের বিপক্ষে দারুণ জয়ে তার হাফ সেঞ্চুরিই ছিল মূল রসদ।