করোনা পরীক্ষা করতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন লিটন

আপডেট : ২৮ মে ২০২০, ২২:৩৭

জ্বর নিয়েই গুলশানের একটি বায়িং হাউজে অফিস করছিলেন রিয়াজুল আলম লিটন। করোনা সন্দেহে সহকর্মীরা পরীক্ষার জন্য তাকে নিয়ে যান পাশের ইউনাইটেড হাসপাতালে। করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন লিটনকে। অপেক্ষা করছিলেন পরীক্ষার ফলের জন্য। পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছিল ঠিকই, কিন্তু হাসপাতাল থেকে আর জীবিত ফিরতে পারলেন না লিটন। অগ্নিকাণ্ডে নির্মম মৃত্যু হলো তার। বুধবার রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে যে পাঁচ জন রোগী মারা যান, তার মধ্যে একজন রিয়াজুল আলম লিটন।

নিহত লিটনের বড়ো ভাই রইসুল আজম ডাবলু জানান, তার ভাই স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার জেমি ও সাত বছরের একমাত্র সন্তান আসমাইন ফিয়াজকে নিয়ে শ্যামলী এলাকায় থাকতেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বিদেশি একটি বায়িং হাউজের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতেন লিটন। বুধবার অফিসে যাওয়ার পর শরীরে তাপমাত্রা একটু বেশি হওয়ায় করোনা পরীক্ষা করতে তিনি হাসপাতালে যান। বিকাল ৩টার দিকে তার শরীর থেকে নমুনা নিয়ে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

রইসুল আজম ডাবলু বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছিলাম করোনা পরীক্ষার ফলাফলের জন্য। ফলাফল ঠিকই নেগেটিভ এলো। কিন্তু ভাই আমার বাঁচল না। ’

নিহত রিয়াজুল আলম লিটনের চাচাতো বোন কানাডা প্রবাসী ডা. গুলশান আক্তার তার ফেসবুকে শোক জানিয়ে লিখেছেন, চরম অব্যবস্থাপনার কারণে আমরা ইউনাইটেড হাসপাতালের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

নিহত লিটনের এক সময়ের রুমমেট ও বীরগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক বিপুল জানান, লিটন জগন্নাথ কলেজ অর্থাত্ বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় থেকে বায়িং হাউসে ব্যবসা করতেন। তিনি লায়ন্স ক্লাব অব দিনাজপুর গার্ডেনের সাবেক সেক্রেটারি এবং ঢাকাস্থ বীরগঞ্জ সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন। এলাকার উন্নয়ন ও যেকোনো সামাজিক কার্যক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তিনি।

নিহত রিয়াজুল আলম লিটনের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জের সুজালপুর এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত ফরজান আলী। চার ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোটো। বৃহস্পতিবার ভোরেই তার লাশ নিয়ে স্বজনরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দুপুর ১২টার দিকে লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। জানাজা শেষে দুপুরেই পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।