হংকং নিরাপত্তা বিল চীনা পার্লামেন্টে পাশ

আপডেট : ২৮ মে ২০২০, ২২:৪২

চলমান বিক্ষোভ সত্ত্বেও বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে চীনের পার্লামেন্ট। পক্ষে পড়েছে ২ হাজার ৮৭৮ ভোট, আর বিপক্ষে মাত্র একটি। হংকংয়ে গত কয়েক দিনে চলা বিক্ষোভ থেকে শিশুসহ কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কঠোর বিরোধিতা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনকে শাস্তি দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্বের প্রায় ২০০ শীর্ষ রাজনীতিক এই নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করেছেন। খবর বিবিসি ও ডয়চেভেলের

বিক্ষোভ সত্ত্বেও বিল পাশ

হংকং নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেড়ে চলা উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল চীনের জাতীয় সংগীতের অবমাননাকারীর জন্য শাস্তির বিধান রেখে হংকং নিরাপত্তা আইনের অনুমোদন দেয় দেশটির পার্লামেন্ট। এর ফলে হংকংয়ের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে এমন অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব অনুমোদিত হলো। কেউ চীনের জাতীয় সংগীতের অবমাননা বা অপব্যবহার করলে তার জরিমানা হবে ৫০ হাজার হংকং ডলার (প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মার্কিন ডলার)। তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। হংকংয়ের নিজস্ব জাতীয় সংগীত নেই।

হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিরা ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থার’ বিরোধিতায় দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন। চীনের পার্লামেন্টে বিলটি অনুমোদনের সময়ও বিক্ষোভ হয়েছে। তবে আগেই দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করায় বিক্ষোভে ব্যাপক লোকসমাগম হয়নি। বুধবার ব্যাপক বিক্ষোভ থেকে শিশুসহ ৩৬০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

কঠোর হুমকি ট্রাম্পের

চীনের হংকং নিরাপত্তা আইন চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে এবং চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কাডলো মঙ্গলবার চীনের কর্মকাণ্ড ‘খুবই বিরক্তিকর’ এবং দেশটি ‘বড়ো ধরনের ভুল’ করছে বলে উল্লেখ করেন। এদিকে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনে চীনকে শাস্তি দিতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও একটি বিল পাশ হয়েছে। এর আগে সিনেটেও বিলটি পাশ হয়েছিল। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হবে।

নতুন নিরাপত্তা আইনে কী আছে?

পার্লামেন্টে পাশ হওয়া বিলে দেশদ্রোহিতা, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও নাশকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং চীন বলছে হংকংয়ে ক্রমশ বেড়ে ওঠা অসন্তোষ ও সহিংসতা মোকাবিলায় এই আইনের প্রয়োজন আছে। সমালোচকরা বলছেন, হংকংয়ের সংক্ষিপ্ত সংবিধানে দেশটিকে যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এই আইন তা খর্ব করবে। ১৯৯৭ সালে হংকংয়ে যখন চীনের শাসনে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তখন এই সংক্ষিপ্ত সংবিধান রচিত হয়েছিল। হংকংয়ের নেতা ক্যারি ল্যাম বলেছেন, এই আইন হংকংয়ের নাগরিকের স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে না।