মহাপ্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আইলার ১১ বছর পূর্তি হলেও খুলনার দাকোপে এখনো পর্যন্ত শত শত পরিবার বেড়িবাঁধের ওপর ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকার নতুন করে পুনর্বাসন না করলে হয়তো আর কোনোদিন তাদের ঘরে ফেরা হবে না এমনই অভিমত অনেকের।
জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৫ মে সুন্দরবন লাগোয়া দাকোপের বিভিন্ন জনপদে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা। মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপজেলার তিনটি পোল্ডার। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় কামারখোলা সুতারখালী দুটি ইউনিয়ন। এ সময় প্রাণ হারায় ১৬ জন, নিখোঁজ হয় সাত জন, আহত হয় ১১ জন। নদীতে অধিক পানি বৃদ্ধির ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭৫.৫ কিঃ মিঃ ওয়াপদা বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়। অসংখ্য পুকুর, চিংড়ি ঘের ডুবে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। গৃহহীন হয় দুটি ইউনিয়নের ২৯৮৩২টি পরিবার। আইলার পর সরকারি ও বেসরকারি বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা জনপ্রতিনিধিদের গাফিলতিতে পানিতে ভেসে যায়। পরে অধিক অর্থ ব্যয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্লোজার আটকিয়ে দুর্গত এলাকাকে ২০১০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পানি মুক্ত ঘোষণা করা হয়। সে সময় সরকারের আর্থিক সহযোগিতা এবং পুনর্বাসনের আওতায় অধিকাংশ পরিবার ঘরে ফেরে। আর ভিটেবাড়ি আইলায় সম্পূর্ণ গ্রাস করায় এবং জায়গা জমি না থাকায় এখনো পর্যন্ত কামারখোলার ৮০টি ও সুতারখালীর ৭০০টি পরিবার বেড়িবাঁধের ওপর ঝুপড়ি ঘরে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া সুপেয় খাবার পানির চরম সংকটতো রয়েছেই।
কালাবগী এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, আইলায় শিবসা নদীগর্ভে ভিটেবাড়ি, ফসলি জমি বিলীন হওয়ায় এবং আর কোনো জায়গা জমি না থাকায় বেড়িবাঁধের ওপর ঝুপড়ি ঘরে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। তাছাড়া কাজ না থাকায় অনেক অসহায় পরিবার জীবিকার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে বলেও জানান তারা।
সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, বেড়িবাঁধের ওপর বসবাসকারীদের জায়গা জমি না থাকায় এবং অনেকের জায়গা বেড়িবাঁধের বাইরে পড়ায় ঘরে ফিরতে পারছে না। সরকার ব্যবস্থা না নিলে হয়তো আর কোনোদিন ঘরে ফিরতে পারবে না তারা। এছাড়া আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নতুন করে আরো প্রায় ১ হাজার লোক রাস্তার ওপর বসবাস শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।
কামারখোলা ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডলও একই অভিমত ব্যক্ত করে জানান, তার ইউনিয়নেও আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নতুন ৪৫টি পরিবার বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া পর্যায়ক্রমে তাদের সরকারি বাড়ি দেওয়া হবে।
