লকডাউন শিথিলে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান কাদেরের

আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ০০:১৯

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি অফিস-আদালত ও গণপরিবহন চালুসহ লকডাউন শিথিলকালে সরকারের দেওয়া শর্ত কঠোরভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘সরকারের দেওয়া এই ছাড় ফ্রি স্টাইলে অপব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নিজেদের স্বার্থে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবনে এক অনলাইন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সতর্কভাবে গণপরিবহন চালানোর আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে যাত্রী, চালক ও শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। করোনার সংক্রমণ রোধে দুই মাস ধরে চলা সাধারণ ছুটি আর না বাড়িয়ে আগামী ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে অফিস চালুর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জীবন ও জীবিকার মাঝে ভারসাম্য তৈরি করে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা, সামাজিক শৃঙ্খলা সুরক্ষার স্বার্থে সরকার ইতিমধ্যে সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এখানে অবশ্য পালনীয় কিছু বিষয় থাকছে, যেমন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কিছু জরুরি নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আমি দেশবাসীকে বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি খাতসহ সকলকে শর্তাবলী কঠোরভাবে প্রতিপালনের অনুরোধ জানাচ্ছি, নিজেদের স্বার্থে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে বিআরটিএসহ বসে আলাপ আলোচনা করে একটি পরিকল্পনা তৈরি করার অনুরোধ করছি। গণপরিবহন পরিচালনায় যাত্রী, পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সবাইকে। মালিক শ্রেণি, যাত্রী সাধারণসহ সকলকে দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দিতে হবে। শুক্রবার পরিবহন মালিক সমিতির সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রণালয় থেকে বিআরটিএকে নির্দেশনা দিয়েছি।’ গণপরিবহন চালুর পর দুর্ঘটনা এড়াতে চালক-শ্রমিক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মেনে চলারও আহ্বান জানান তিনি।

করোনা ভাইরাস সংকটকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার কৌশল আত্মঘাতী বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার আশা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে জীবন-জীবিকার মাঝে সাযুজ্য বিধানের যে প্রয়াস চলছে তার থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন থাকতে পারি না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তার সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বে ইতিপূর্বে আমরা অনেক সংকট থেকে উত্তরণ লাভ করেছি। ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে তার দক্ষতার খ্যাতি বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত। আপনারা মনোবল না হারিয়ে তার প্রতি আস্থা রাখুন, সরকারকে সহযোগিতা করুন।’

বিশ্বের অনেক দেশ ক্রমান্বয়ে লকডাউন শিথিল করছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় যুক্তরাষ্ট্রেই মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনেক দেশে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অনেক দেশ লকডাউন শিথিল করেছে। কোথাও কোথাও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার দিকে যাত্রা শুরু করেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের তালিকায় থেকেও অর্থনীতির স্বার্থে লকডাউন শিথিল করেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো করোনা তহবিল গঠন, হেল্পলাইন চালুসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এসবের কোনোটাই বিএনপি করতে পারেনি। তবে কি দেশের জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়িত্ব নেই?